বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে ধোঁয়াশা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। বুধবার রাতেও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা ও অনিশ্চয়তা।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সম্ভাব্য হামলার অনুমোদন দিয়েছেন বলে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে। তবে হামলা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়।

হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ট্রাম্প তার শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেন।

গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ইরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে রাজি হয়, তাহলে ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রাখতে পারেন।

ইসরায়েলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেবে কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানিয়েছেন, “আমি এটা করতে পারি, আবার নাও করতে পারি।” বিশ্লেষকরা এটিকে কৌশলগত ধোঁয়াশা বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

সিবিএন-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের ফোর্দোতে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে। তবে এখনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর মধ্যে কোনো স্থানে সরাসরি প্রস্তুতির ইঙ্গিত মেলেনি।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানি প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসতে চান এবং হোয়াইট হাউসে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে ইরান এই দাবি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে।
ইরানের বার্তা, “আমরা হোয়াইট হাউসের দরজায় কখনোই ঝুঁকবো না।”

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলি হামলায় অংশ নেয়, তবে এর মূল্য দিতে হবে চরমভাবে।”

বিশ্ব রাজনীতিতে এ মুহূর্তে ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কোন পথে হাঁটবে? সামরিক শক্তি প্রদর্শন, না কি কূটনৈতিক সমাধানের পথে?

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন