রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ঘুষ-অনিয়ম ঠেকাতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগে নতুন নীতিমালা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (নন-টিচিং স্টাফ) নিয়োগে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে অবশেষে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, নিয়োগ তদারকি করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), আর নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)।

গত বুধবার (১৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এক সভায় এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ প্রায়ই উঠতো। একেকটি পদে নিয়োগের জন্য ৮ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে কেন্দ্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থার প্রস্তাব করে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর, যা এখন অনুমোদন পেল।

নতুন নীতিমালায় নিয়োগের যোগ্যতা ও শর্তাবলী আগের মতোই থাকবে, তবে নিয়োগ পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, “এমপিও নীতিমালায় যেভাবে নিয়োগের শর্ত রয়েছে, তা অপরিবর্তিত থাকবে। পরিবর্তন হচ্ছে শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়ায়—যেখানে স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটির পরিবর্তে এখন জেলা প্রশাসন নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং পুরো বিষয়টি মনিটর করবে মাউশি।”

সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো এক প্রস্তাবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রধান ও অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএকে দেওয়ার পাশাপাশি কর্মচারী নিয়োগ কেন্দ্রীয়ভাবে ডিসি বা মাউশির মাধ্যমে করার সুপারিশ করে। শেষপর্যন্ত সেই প্রস্তাব বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে নিয়োগে স্বচ্ছতা যেমন বাড়বে, তেমনি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতিও কমবে। তবে নীতিমালার সফল বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিতা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন