পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় নিজের শ্বশুরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিলেন তাসলিমা আক্তার নামে এক গৃহবধূ। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, লাকসাম উপজেলার আশকামতা গ্রামের বাসিন্দা তাসলিমা আক্তারের স্বামী বিলাল হোসেন ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। স্বামী দূরে থাকার সুযোগে তাসলিমা একাধিক পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে শ্বশুর মো. চান মিয়া প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়।
২০১৪ সালের ১১ জুলাই গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বশুরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন তাসলিমা। ছুরি দিয়ে প্রথমে তার পুরুষাঙ্গ কেটে দেন, পরে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। হত্যার পর গোসল করে নিজেই ঘটনাটি জানান দেন শ্বশুরের মেয়ে বেবি আক্তারকে, এবং তাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করেন।
ঘটনার পর নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে লাকসাম থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ তাসলিমাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি মো. বেলাল হোসেন ভূঁইয়া জানান, “এটি ছিল একটি বর্বরোচিত ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আদালতের এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”

