ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধাবস্থার মাঝে কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে উদ্যোগ নিয়েছে রাশিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরাসরি তেহরানকে তত্ত্বাবধানের প্রস্তাব দিয়েছেন।
রুশ সংবাদমাধ্যম ও দ্য ইকোনমিক টাইমস সূত্রে জানা যায়, পুতিন ইরানকে প্রস্তাব দিয়েছেন, তাদের পরমাণু কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিতে রাশিয়া তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে। এ বিষয়ে তিনি ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
পুতিন বলেন, “আমরা চাই ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালনা করুক। রাশিয়া এ প্রকল্পে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত—শুধু নিরাপত্তা নয়, আন্তর্জাতিক আস্থাও নিশ্চিত করতে পারি।”
ইরানের বুশেহারে নির্মাণাধীন দুটি পারমাণবিক চুল্লি নিয়ে রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন পুতিন। এ নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গেও ফোনালাপ হয়েছে বলে রুশ প্রেসিডেন্ট দাবি করেন। পুতিন বলেন, “নেতানিয়াহু আমাকে জানিয়েছেন, বুশেহারের ওই স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হবে না।”
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে অস্ত্র সহায়তার কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি নেই বলেও পুতিন জানান। “ইরান এখনো আমাদের কাছ থেকে সরাসরি অস্ত্র চায়নি,” বলেন তিনি। তবে জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে কৌশলগত সহযোগিতার কথা রয়েছে, যা রুশ-ইরান সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতাকে ইঙ্গিত করে।
পুতিনের মতে, “ইরানের নিরাপত্তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ইসরায়েলের উদ্বেগও অবহেলা করা উচিত নয়। পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং আঞ্চলিক উদ্বেগ দূর করে দুই পক্ষের মধ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার এই প্রস্তাব কেবল কূটনৈতিক নয়, একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব বিস্তারের অংশও হতে পারে।

