ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার যেকোনো প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ অস্থিরতা ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ শুক্রবার সকালে এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “খামেনির বিরুদ্ধে হত্যা ষড়যন্ত্র প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেওয়ার মতো হবে। এটি ইরানের অভ্যন্তরে শুধু চরম প্রতিক্রিয়া নয়, বরং গোটা অঞ্চলে চরমপন্থার বিস্তার ঘটাবে।”
পেসকভ আরও বলেন, তেহরানে সরকার পরিবর্তনের চিন্তাও রাশিয়ার দৃষ্টিতে ‘অকল্পনীয় ও অগ্রহণযোগ্য’। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এমন যে কোনো পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করবে মস্কো।
অন্যদিকে, ইরানে হামলা সংক্রান্ত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে আরও দুই সপ্তাহ সময় নিতে চান।
ট্রাম্প বলেন, “ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যতে আলোচনা হতে পারে—এমন সম্ভাবনা আছে। তবে তা না-ও হতে পারে। আমি এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি।”
তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বুধবার একটি প্রতিবেদনে দাবি করে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিষয়ে অভ্যন্তরীণভাবে সম্মতি দিয়েছে, যদিও এখনো চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ইরান রাশিয়াকে বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে, যা ইউক্রেনে ব্যবহৃত হয়েছে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রকাশ্য হুমকি বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

