বিশ্ববাজারে অস্থিরতার মাঝেও স্বর্ণের মূল্য কয়েক বছর ধরে ঊর্ধ্বমুখী। তবে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক সিটির মতে, সেই ধারা খুব বেশি দিন টিকবে না। প্রতিষ্ঠানটি পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকেই স্বর্ণের দরপতন শুরু হতে পারে, যা ২০২৬ সালের মধ্যেই আরও প্রকট হবে।
বিশেষত, দুবাইয়ের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ফের ৩০০ দিরহামের নিচে নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে এই দামের অবস্থান প্রতি গ্রাম ৩৭৮.৫ দিরহাম, আর ২৪ ক্যারেটের দাম ৪০৮.৭৫ দিরহাম।
সিটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মার্কিন অর্থনীতির সম্ভাব্য ঘুরে দাঁড়ানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। এর ফলে স্বর্ণের চাহিদা কমে যাবে, আর দামেও আসবে বড় পতন।
“২০২৫-২৬ সালে স্বর্ণে বিনিয়োগ আগ্রহ কমবে। কারণ বাজার তখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ঘুরে দাঁড়ানো এবং নির্বাচনী স্থিতিশীলতার দিকে নজর দেবে,” — সিটি রিপোর্ট
দুবাইয়ের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা কিন্তু সিটির এ পূর্বাভাসে একমত নন। কানজ জুয়েলার্স-এর এমডি অনিল ধানক বলেন,
“আমি মনে করি স্বর্ণের দাম ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৩৮০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। বিশ্বে চলমান রাজনৈতিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তা দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রেতাদের একটা বড় অংশ এখন ধীরে ধীরে ডিজিটাল গোল্ড, ইটিএফ ও অ্যাপ-ভিত্তিক সোনার বিনিয়োগ বেছে নিচ্ছে। কারণ বাস্তব স্বর্ণের দাম এখন অনেকের ক্রয়সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে।
স্বর্ণ বিক্রেতারা বলছেন, দাম যদি ৩০০ দিরহামের নিচে নামে, তাহলে বাজারে নতুন করে চাহিদা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবিত্তরা আবার উপহার ও বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ কিনতে শুরু করবে।
স্বর্ণের দামের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে একাধিক বিষয়ের ওপর—বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয় নীতির পরিবর্তন, মার্কিন ডলারের অবস্থা এবং ভূরাজনৈতিক পরিবেশ।
শেষ পর্যন্ত, ৩০০ দিরহামের নিচে দাম নামবে কিনা—তা বলবে সময় ও বাজারের গতি।

