২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। রোববার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাজেট প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
এই বাজেট কার্যকর হবে ১ জুলাই থেকে। এবারের বাজেটে ফ্ল্যাট কেনা ও ভবন নির্মাণে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালোটাকা বিনিয়োগ করে বৈধ করার সুযোগ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশংসা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার এ বাজেটে ৫.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বাজেট ঘাটতি থাকছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাজেটটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হয়নি, কারণ বর্তমান সরকার একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জনমত গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছিল। কিছু ব্যবসায়ী সংগঠন সংবাদ সম্মেলন ও অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে।
চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বরাদ্দ বেড়েছে, যার পরিমাণ ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে ৫২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ অপরিবর্তিত বা কমেছে।
এবার সংসদ কার্যকর না থাকায় গত ২ জুন টেলিভিশনে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ইতিহাসে এই প্রথম সংসদ ছাড়া বাজেট চূড়ান্ত করা হলো শুধুমাত্র উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে।

