জীবনের বাস্তবতায় সবসময় অজু বা গোসলের জন্য পানি পাওয়া নাও যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামে রয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা—তায়াম্মুম। এটি কেবল পানির অভাব নয়, বরং রোগ-ব্যাধি কিংবা বিশেষ পরিস্থিতিতেও বৈধ, যা ইসলামের উদারতা ও মানবিকতার বহিঃপ্রকাশ।
পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
وَ اِنۡ کُنۡتُمۡ مَّرۡضٰۤی اَوۡ عَلٰی سَفَرٍ اَوۡ جَآءَ اَحَدٌ مِّنۡکُمۡ مِّنَ الۡغَآئِطِ اَوۡ لٰمَسۡتُمُ النِّسَآءَ فَلَمۡ تَجِدُوۡا مَآءً فَتَیَمَّمُوۡا صَعِیۡدًا طَیِّبًا فَامۡسَحُوۡا بِوُجُوۡهِکُمۡ وَ اَیۡدِیۡکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰهَ کَانَ عَفُوًّا غَفُوۡرًا
“…তোমরা যদি অসুস্থ হও, অথবা সফরে থাকো, অথবা কেউ পায়খানা করে আসে বা স্ত্রীগমন করে, অতঃপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করো।” (সূরা নিসা: ৪৩)
কখন তায়াম্মুম করা যাবে?
✅ পানি এক মাইল বা তার বেশি দূরে
✅ রোগের কারণে পানি ব্যবহার ক্ষতিকর
✅ নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে
✅ ঈদ ও জানাজার নামাজের সময় সংকট
তবে মনে রাখতে হবে— নিয়মিত ফরজ নামাজের সময় স্বল্পতা তায়াম্মুমের বৈধতা দেয় না। কেউ যদি ঘুম থেকে উঠে দেখেন অজু করলে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে, তবে তায়াম্মুম না করে কাজা নামাজ আদায় করতে হবে।
তায়াম্মুম করার নিয়ম:
-
নিয়ত করুন পবিত্রতা অর্জনের জন্য।
-
পরিষ্কার মাটি বা মাটিজাত বস্তুতে (যেমন: বালু, পাথর, ইট, চুনা ইত্যাদি) হাত রাখুন।
-
প্রথমবার মুখে মাসেহ করুন।
-
দ্বিতীয়বার হাতে মাটি লাগিয়ে দুই হাত কনুইসহ মাসেহ করুন।
যেসব কারণে তায়াম্মুম ভেঙে যায়:
🔹 অজু বা গোসল নষ্ট হয় এমন যেকোনো কাজ
🔹 তায়াম্মুমের কারণ (যেমন পানি না পাওয়া বা অসুস্থতা) দূর হয়ে যাওয়া
ইসলামি চিন্তাবিদদের মত:
মাওলানা শহীদুল্লাহ কাসেমী বলেন, “তায়াম্মুম ইসলামের বাস্তবতানির্ভরতা ও মানবিকতার পরিচায়ক। এটি কোনো ছাড় নয়, বরং বাধ্যতামূলক বিকল্প, যেখানে শরিয়তের বিধান প্রযোজ্য।”
তথ্যসূত্র: কোরআন, হাদিস ও ফিকহ গ্রন্থসমূহ

