ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ম্যাচে বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্ডার আন্টোনিও রুডিগার—এমন অভিযোগে নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
রোববার (২২ জুন) রাতে মেক্সিকান ক্লাব পাচুকার বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ের ম্যাচে ঘটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে রেফারি রামন আবাত্তি বর্ণবাদবিরোধী সংকেত প্রদর্শন করেন, যা ঘটনার গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
রুডিগারের ফাউলের পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির মুহূর্তেই অভিযোগের সূত্রপাত হয়। তবে কোন উৎস থেকে বর্ণবাদী মন্তব্য এসেছে—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগ উঠেছে গ্যালারি বা প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়—দুই দিক থেকেই।
রিয়াল মাদ্রিদের ম্যানেজার জাবি আলোনসো সংবাদ সম্মেলনে বলেন,
“রুডিগার যা বলেছে, আমরা তার ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখি। এমন ঘটনায় আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—শূন্য সহনশীলতা। এখন বিষয়টি ফিফার তদন্তাধীন, এর বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।”
প্রতিপক্ষ পাচুকার ডিফেন্ডার গুস্তাভো কাব্রাল, যিনি ওই সংঘর্ষে রুডিগারের সঙ্গে জড়িয়েছিলেন, বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন,
“আমি তাকে শুধু ‘কাগোন দে মিয়েরা’ বলেছি, যেটা একটা আর্জেন্টাইন গালি। বর্ণবাদ কিছু বলিনি।”
ফিফার পক্ষ থেকেও এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা রেফারির রিপোর্ট পাওয়ার পর তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে।
৩২ বছর বয়সী রুডিগার এর আগেও মাঠে ও অনলাইনে বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন। চেলসি, রোমা এবং রিয়ালের হয়ে খেলার সময় একাধিক ঘটনায় এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে এই জার্মান ডিফেন্ডারের।
বিশ্ব ফুটবলে বারবার ঘুরে আসা বর্ণবাদের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে এই নতুন অভিযোগ পরিস্থিতিকে আবারও নাড়া দিয়েছে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন নজর রাখছেন—ফিফা কীভাবে এই অভিযোগের সুরাহা করে।

