বর্তমান সময়ে আদালত থেকে শুরু করে সামাজিক বিচার-আচারে মিথ্যা সাক্ষ্য যেন একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ ইসলাম এই কাজকে কঠিন গুনাহ ও ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বারবার মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া এবং সত্য গোপনের বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
“আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করব না?… তিনি বললেন, আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা, মা-বাবার অবাধ্য হওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।”
📖 (বুখারি: ২৬৫৪)
এই হাদিসে মিথ্যা সাক্ষ্যকে শিরক ও পিতামাতার অবাধ্যতার পাশে রাখা হয়েছে, যা এ গুনাহের ভয়াবহতা বুঝিয়ে দেয়।
মিথ্যা সাক্ষ্যদাতার জন্য পরকালের শাস্তির বর্ণনায় এসেছে—
“কিয়ামতের দিন মিথ্যা সাক্ষ্যদাতা পা সরাতে পারবে না, যতক্ষণ না তার ব্যাপারে জাহান্নামের সিদ্ধান্ত হয়ে যায়।”
📖 (ইবনে মাজাহ: ২৩৭৩)
শুধু মিথ্যা সাক্ষ্য নয়, ইসলামে সত্য গোপন করাকেও গুনাহ বলা হয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে:
“তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে গোপন করবে, তার অন্তর পাপী হবে।”—
📖 (সুরা আল বাকারা: ২৮৩)
এ প্রসঙ্গে আরও বলা হয়েছে—
“হে ঈমানদাররা! তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইনসাফের সাক্ষ্য দেবে—even যদি তা নিজের বা নিকটাত্মীয়ের বিরুদ্ধে হয়।”
📖 (সুরা আন নিসা: ১৩৫)
আসলে সাময়িক লাভের জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে কেউ হয়তো দুনিয়ায় সুবিধা নিতে পারে, কিন্তু কিয়ামতের দিনে আল্লাহর সামনে তার কোনও ওজর গ্রহণযোগ্য হবে না।
আল্লাহ বলেন:
“যারা সামান্য মূল্যের বিনিময়ে আল্লাহর অঙ্গীকার ও শপথ বিক্রি করে, আখিরাতে তাদের কোনো অংশ নেই।”
📖 (সুরা আলে ইমরান: ৭৭)

