বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিগত এক দশকে ব্যয় করেছে ২ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থের ব্যবহারে রয়েছে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে শুরু করেছে অনুসন্ধান। এরইমধ্যে ২৭টি খাত চিহ্নিত করে বিসিবির কাছে চাওয়া হয়েছে বিস্তারিত নথিপত্র।
দুদক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সূত্র বলছে—সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের আমলে বিসিবি যেন হয়ে উঠেছিল এক ‘দুর্নীতির দুর্গ’। বল কেনা থেকে শুরু করে সাধারণ সভা, বিদেশ সফর, টিকিট বাণিজ্য, কনসার্ট আয়োজন, বিপিএল পরিচালনা—সব কিছুতেই জড়িয়ে পড়েছে লুটপাটের অভিযোগ।
কী কী অনিয়ম সামনে এসেছে?
-
বল কেনায় ব্যয়: ১৩ বছরে ব্যয় ৯২ কোটি টাকা।
-
বোর্ড ও সাধারণ সভায় খরচ: ৩০ কোটিরও বেশি।
-
অডিট রিপোর্টে ব্যয়: ৩৩ পাতার রিপোর্টের জন্য ৪৬ লাখ টাকা।
-
মুজিববর্ষে কনসার্ট: এ আর রহমানকে গান গাওয়ার জন্য ৫ কোটি, পুরো আয়োজনের ব্যয় ২৫ কোটি টাকার বেশি।
-
বিপিএলে হিসাব গায়েব: ১১৩ কোটি টাকার কোনো হদিস নেই।
-
বিদেশ সফর: পাপনের একক ৫২টি সফরে খরচ প্রায় ৪ কোটি টাকা।
দুদকের উপপরিচালক মো. সাইদুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, “বিসিবির কাছে পর্যায়ক্রমে চাওয়া হয়েছে সব তথ্য। বেশ কিছু অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছি। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিপিএল নিয়ে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বিসিবির সাবেক পরিচালক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি ২০১৪ সালে না হওয়া এক আসরের পেছনেও খরচ করা হয়েছিল ৩.৫৭ কোটি টাকা! পূর্বাচল স্টেডিয়াম প্রকল্পেও রয়েছে শত কোটি টাকার অস্বচ্ছ ব্যয়, যেখানে কাজ শুরুর আগেই পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা হয়েছে অর্ধেকের বেশি ফি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এগুলো শুধু অনিয়ম নয়—রাষ্ট্রীয় সম্পদের পরিকল্পিত অপচয়। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে, যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
ক্রিকেট বাংলাদেশের প্রাণ। কিন্তু তার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় যদি এই ধরনের আর্থিক অনিয়ম চলতে থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠবে প্রতিষ্ঠানটির গ্রহণযোগ্যতা ও জবাবদিহিতার ওপর। বিসিবির স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

