সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

গিবত: ইসলাম যে পাপকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছে

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ইসলাম একটি শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। কিন্তু এই ভ্রাতৃত্ব বিনষ্ট করে এমন একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধির নাম গিবত বা পরনিন্দা। ইসলামে গিবতকে শুধু গুনাহই নয়, বরং মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মতো জঘন্য পাপ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“হে মুমিনগণ! অধিক সন্দেহ থেকে দূরে থাকো… এবং তোমরা একে অপরের গিবত করো না। তোমাদের কেউ কি পছন্দ করবে, সে তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাবে? তোমরা তো তা ঘৃণা করো!”
— (সুরা হুজুরাত: ১২)

এই আয়াতে গিবতের ভয়াবহতা উপলব্ধির জন্য একটি কল্পনাতীত দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে, যাতে মুমিনরা সতর্ক হয়।

একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কি জানো গিবত কাকে বলে?”
সাহাবিরা বললেন, “আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন।”
তিনি বললেন:

“গিবত হলো—তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কিছু বলা, যা সে অপছন্দ করে।”
এক সাহাবি জিজ্ঞাসা করলেন, “যদি সেই দোষ তার মধ্যে থাকে?”
রাসুল (সা.) উত্তর দিলেন:
“তাহলেই তো গিবত। আর যদি না থাকে, তবে তুমি তাকে অপবাদ দিলে।” (সহিহ মুসলিম)

ইসলাম গিবত থেকে ফিরে আসার জন্য ৪টি করণীয় সুপারিশ করে:

  1. আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা ও অনুতাপ।

  2. যার গিবত করা হয়েছে, সুযোগ থাকলে তার কাছে ক্ষমা চাওয়া।

  3. তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা।

  4. যার সামনে গিবত করা হয়েছে, তাদের সামনে সেই ব্যক্তির প্রশংসা করা।

শুধু গিবত করাই নয়, গিবত শ্রবণ করাও গুনাহ।
ইসলামের আলেম ও তাবেঈগণ গিবতকারীদের সঙ্গে বসতে নিষেধ করেছেন। বিখ্যাত বুযুর্গ মারুফ কারখি (রহ.) বলেন:

“যখন কেউ গিবত শুরু করে, তখন মৃত্যুর কথা স্মরণ করো—যেদিন তোমার চোখে তুলা দেওয়া হবে।”
(হিলয়াতুল আওলিয়া)

গিবত একটি সমাজঘাতী রোগ, যা সম্পর্ক ভাঙে, বিশ্বাস নষ্ট করে এবং মানুষের অন্তরে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে। ইসলাম চায়—মুসলমানরা যেন ভ্রাতৃত্ব, সদাচরণ ও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখে।

🕌 তাই আসুন, আমরা গিবত এবং পরনিন্দা থেকে নিজেকে বিরত রাখি, অন্যদেরও সচেতন করি। আল্লাহ আমাদের গিবতের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে তা থেকে রক্ষা পাওয়ার তাওফিক দিন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন