প্রতিনিধিত্ব নেই কমিশনে, ‘ভুল তথ্য’ দিয়ে প্রস্তাব—১৮ দফা দাবি নিয়ে মাঠে নামার হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনায় হোমিওপ্যাথিক, ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা। অভিযোগ, এই তিন প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতির কোনো প্রতিনিধিকে কমিশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, এমনকি মতামতও নেওয়া হয়নি। তারা কমিশনের কাছে ১৮ দফা সংশোধনী দাবি পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে আলাদা বিভাগ গঠন, বিসিএস ক্যাডার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং নীতিমালায় অন্তর্ভুক্তির দাবি।
কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে মাত্র ১.১% মানুষ হোমিওপ্যাথিক এবং ০.২% ইউনানি-আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, হোমিও কাউন্সিল ও অন্যান্য সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে প্রায় ২০-৪০% মানুষ এসব চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল। দেশের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লাখো মানুষ এই চিকিৎসা গ্রহণ করছে প্রতিদিন।
হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ডা. মনির আহম্মদ বলেন, “কমিশনের প্রতিবেদনে বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থার ভূমিকা খাটো করে দেখা হয়েছে। এটি স্বাস্থ্যসেবার পরিপূর্ণ চিত্র উপস্থাপন করছে না।”
বাংলাদেশ ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিসিন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. তাওহীদ আল বেরুনী বলেন, “প্রয়োজনীয় সংশোধন না হলে আমরা এই খাতের সবাইকে নিয়ে আন্দোলনে যাব।”
অন্যদিকে, কমিশনের সদস্য ড. আবু মুহাম্মদ জাকির হোসেন দাবি করেন, “আমরা নিজেরা তথ্য তৈরি করিনি, বিবিএস জরিপ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি। আমরা কোনো খাতকে বাদ দেইনি, বরং তাদের ফলপ্রসূতা যাচাইয়ের সুপারিশ করেছি।”
তবে খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ওষুধি চিকিৎসাপদ্ধতি এবং ওষুধশিল্পের বিস্তৃতি উপেক্ষা করে যেকোনো সংস্কার ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তারা স্বাস্থ্য কমিশন, হেলথ সার্ভিস কাঠামো এবং জাতীয় নীতিতে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা ও শিক্ষা উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।
-
আলাদা বিভাগ ও কাউন্সিল গঠন
-
রাজস্ব খাতে চিকিৎসক অন্তর্ভুক্তি
-
জেলা-উপজেলায় ইউনিট স্থাপন
-
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উচ্চশিক্ষা সুযোগ
-
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি নিশ্চিত
-
নীতিমালায় স্পষ্ট অন্তর্ভুক্তি
এই প্রতিবেদন প্রসঙ্গে একাধিক পক্ষের মতভেদ থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির বাস্তব ও প্রমাণভিত্তিক অবদান অস্বীকার করা যাবে না।

