সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ক্ষতিপূরণ ছাড়াই মালয়েশিয়া থেকে ২ কর্মীকে ফেরত পাঠাচ্ছে হাইকমিশন

ডেস্ক রিপোর্ট।।

মালয়েশিয়ায় কাজ করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন দুই বাংলাদেশি শ্রমিক—তৌহিদ মিয়া (পাসপোর্ট: A0716246) এবং মো. হাসান (পাসপোর্ট: B0017782)। তারা দেশে ফেরার জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে আবেদন করেন, এবং হাইকমিশন মানবিক বিবেচনায় তাদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে।

তবে, এই ঘটনার পর থেকেই উঠে এসেছে নানা প্রশ্ন—প্রবাসে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ এবং দায়িত্ব পালনে নিয়োগদাতা কোম্পানির ভূমিকাকে ঘিরে।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের মালয়েশিয়া অফিস থেকে দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, আহত দুই শ্রমিককে দেশে ফেরাতে সরকারিভাবে সহায়তা করা হয়েছে। তবে একই পোস্টে মন্তব্য করে সাংবাদিক ও মালয়েশিয়া প্রতিনিধি মোস্তফা ইমরান রাজু প্রশ্ন তোলেন—“কর্মক্ষেত্রে আহত হলে চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব তো নিয়োগদাতার, তাহলে সরকারি খরচে কেন তাদের দেশে পাঠানো হলো?”

এই প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়নি হাইকমিশনের পক্ষ থেকে। হাইকমিশনের লেবার কাউন্সিলর শরিফুল ইসলাম জানান, “আবেদনে সংশ্লিষ্ট দুই প্রবাসী কোথায় এবং কাদের অধীনে কাজ করতেন, সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেননি। শুধু দেশে ফেরার অনুরোধ জানানো হয়।”

এদিকে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, “এই ঘটনা থেকে বোঝা যাচ্ছে শ্রমিকদের যথাযথ তথ্য সংগ্রহ, তাদের সুরক্ষা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় এখনও বড় ঘাটতি আছে।”

প্রবাসী সংগঠনগুলো বলছে, মালয়েশিয়ায় সোসকো (SOCSO) নামের একটি ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যেখানে কর্মরত ব্যক্তি আহত হলে তার চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ দেয় সরকার ও কোম্পানি যৌথভাবে।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যদি শ্রমিক বৈধভাবে কর্মরত ছিলেন, তবে তারা সোসকোর অধীনে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে পারতেন। এই ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য কোম্পানির সহযোগিতা অপরিহার্য।”

ফেসবুক পোস্টে আরও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মালয়েশিয়ায় বহু বাংলাদেশি কর্মী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কেউ দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছেন, কেউ কারাগারে পচে মরছেন—কিন্তু তাদের অধিকাংশই থেকে যাচ্ছেন রাষ্ট্রীয় নজরদারির বাইরে।”

প্রসঙ্গত, শ্রমিক তৌহিদ ও হাসান কবে, কোথায় এবং কীভাবে আহত হয়েছেন সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি হাইকমিশন।

অন্যদিকে হাইকমিশন দাবি করেছে, “প্রবাসীদের কল্যাণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়েই কাজ করা হচ্ছে।” তবে, এই ঘটনার পর সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—দুর্যোগ বা দুর্ঘটনায় পড়লে আদৌ কেউ পাশে থাকবে কি না।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন