ইসরায়েলের অভিযানে ইরানে আরও এক পরমাণুবিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম। নিহত বিজ্ঞানীর নাম সোলেইমান সোলেমানি, যিনি ইরান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গ্র্যাজুয়েট এবং পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আইএসএনএ ও ইরান ফ্রন্ট পেজ–এর খবরে বলা হয়, সোলেমানি ‘ইসরায়েলি জায়নবাদী গোষ্ঠীর’ পরিচালিত হামলায় নিহত হন। হামলার বিস্তারিত স্থান বা পদ্ধতি প্রকাশ না করা হলেও এটিকে পরমাণু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইরান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে সোলেমানির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়,
“ইসরায়েলের বর্বর সন্ত্রাসী হামলায় শহীদ আমাদের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সোলেইমান সোলেমানির পরিবার, সহকর্মী এবং একাডেমিক কমিউনিটির প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
সোলেমানির মৃত্যুর আগে তেহরানের নারমাক জেলায় আরও একটি হামলায় নিহত হন আলি বাকুউয়ে, যিনি একাধারে একজন বিজ্ঞানী ও বক্সিং কোচ ছিলেন। তার সঙ্গে নিহত হয়েছেন তার স্ত্রী ও দুই সন্তানও। তার পরিচয় এতদিন জনসমক্ষে না এলেও পরবর্তী অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি একটি সেনাসংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্পে কাজ করতেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব হামলার লক্ষ্য হলো ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে দুর্বল করা এবং দেশটির প্রযুক্তি সক্ষমতার উন্নয়নে নিয়োজিত মেধাবী বিজ্ঞানীদের ভয়ভীতি ও আতঙ্কে রাখা।
ক্রমবর্ধমান এ ধরনের হামলার প্রেক্ষিতে তেহরানে উচ্চমাত্রায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দাবি করেছে, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরাসরি জড়িত।
তেহরান এখন এমন এক অবস্থায় রয়েছে, যেখানে পরমাণু বিজ্ঞানীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হয়ে উঠেছে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

