দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আসছে আরেকটি পরিবর্তন। ২০২৭ সাল থেকে শুরু হচ্ছে নতুন এক শিক্ষাক্রম, যেখানে অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক, বাস্তবজ্ঞান ও প্রয়োগযোগ্য পাঠদানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এই কারিকুলাম চালু করা হবে, পরে তা ধাপে ধাপে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে সম্প্রসারিত হবে।
সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) এক বৈঠকে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারসহ এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত হয়নি। জুলাই মাসে একটি কর্মশালার মাধ্যমে বিষয়গুলো নিয়ে আরও আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এনসিটিবির সচিব সাহতাব উদ্দিন বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা পর্যালোচনা করে এই শিক্ষাক্রম তৈরি করা হবে। ২০১২ এবং ২০২৩ সালের শিক্ষাক্রমের কার্যকর দিকগুলো নতুন কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশে সাতবার শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন এসেছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালে চালু হওয়া শিক্ষাক্রমটি ‘অভিজ্ঞতাভিত্তিক ও মুখস্থবিমুখ’ হলেও অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। আন্দোলন, সমালোচনা এবং সরকার পতনের প্রেক্ষাপটে ওই শিক্ষাক্রম বাতিল করে ফিরিয়ে আনা হয় ২০১২ সালের সৃজনশীল কারিকুলাম।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন করে যে শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কথা হচ্ছে, তা আগামী সরকার ও জাতীয় শিক্ষানীতির দিকনির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।

