সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মাশরুম চাষে স্বপ্ন দেখিয়ে হতাশা, গাইবান্ধায় ভেঙে পড়ছে সরকারি প্রকল্প

ডেস্ক রিপোর্ট।।

স্বপ্ন ছিল উদ্যোক্তা হবেন, নিজের পায়ে দাঁড়াবেন। কিন্তু সরকারি সহায়তায় শুরু হওয়া মাশরুম চাষ প্রকল্প এখন দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে গাইবান্ধার অনেক উদ্যোক্তার কাছে। নানা অনিয়ম, দায়িত্বহীনতা ও বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতায় মুখ থুবড়ে পড়েছে ‘মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাস’ প্রকল্প।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় দুটি প্রদর্শনী প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। জুন মাসেই কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে এখনো একটি প্রকল্পে কেবল কিছু সিমেন্টের খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে।

প্রতিটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয় ৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে ইনকুবেশন কক্ষ, চাষঘর, ইনোকুলেশন চেম্বার, সাইনবোর্ড, র্যাক, ব্যাটারি চালিত ভ্যান—সবই থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে নেই অধিকাংশই।

নারায়ণপুর ও বাদিয়াখালী এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, প্রকল্প দুটি অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সময়মতো সরঞ্জাম সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণ না করায় তারা কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি।

নারায়ণপুরের সাহিদা বেগম বলেন, “ঢাকায় বিউটি পার্লারে কাজ করতাম। পরে মাশরুম চাষে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ এলাকায় ফিরে আসি। কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে প্রকল্প পাই। আট মাস পেরিয়ে গেছে, কিন্তু ঘরে এখনো শুধু খুঁটি। একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল, এখন হতাশায় দিন কাটছে।”

বাদিয়াখালীর উদ্যোক্তা মোস্তফা কামাল বলেন, “প্রকল্প শুরু হওয়ার আগেই রংপুরে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিই। কিন্তু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে কিছুই সময়মতো হয়নি। ইনকুবেশন কক্ষ, দরজা, পানি পাম্প, কুলিং সিস্টেম—কিছুই পাইনি।”

গাইবান্ধা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাহাদৎ হোসেন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “এসব আমাদের দেখার বিষয় না। নিউজ করে কি কোনো সমাধান হয়েছে? উপর থেকে ভিডিও বা বক্তব্য দিতে নিষেধ আছে।”

এই মন্তব্যে হতবাক স্থানীয় উদ্যোক্তারা ও সচেতন নাগরিকরা। একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী উদ্যোক্তার স্বপ্ন নষ্ট হওয়াকে ‘প্রশাসনিক ব্যর্থতা’ বলেই মনে করছেন তারা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন