বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

‘চেয়ারম্যান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কাজে ফিরব না’: এনবিআরের শাটডাউন আন্দোলন তীব্র

ডেস্ক রিপোর্ট।।

রাজস্ব খাতে অংশগ্রহণমূলক সংস্কার দাবি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে সকাল থেকেই শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে এনবিআর ভবনের সব ধরনের অফিসিয়াল কার্যক্রম। অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান রাজস্ব আহরণকারী সংস্থার সব কার্যক্রম।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। গেটের সামনেই অবস্থান নিয়ে চলে স্লোগান ও বক্তৃতা। ভবনে প্রবেশ বা বের হওয়ার সুযোগ নেই কারও। নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে আন্দোলনের প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দর, বেনাপোল, হিলি, পেট্রাপোল, ঢাকার কাস্টমস হাউসসহ দেশের সব কাস্টমস ও শুল্ক স্টেশন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের শুল্কায়ন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে চলমান এ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তারা বলেন, “আমরা অংশগ্রহণমূলক সংস্কার চাই। একটি অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত প্রতিষ্ঠান দিয়ে রাজস্ব আহরণ সম্ভব নয়। এনবিআরের বর্তমান চেয়ারম্যান এই সংস্কারপ্রক্রিয়ার প্রধান অন্তরায়।”

তারা আরও বলেন, “আমরা সরকারের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চাই না। তবে কর সংগ্রহের মতো গুরুতর দায়িত্বে থেকে এই অব্যবস্থাপনা আর মানা যায় না। যতদিন না চেয়ারম্যান পদত্যাগ করছেন, ততদিন আমরা কাজে ফিরছি না।”

জুন মাস অর্থবছরের শেষ সময় হওয়ায় এনবিআরের রাজস্ব আহরণে সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। অথচ এমন সময়ে পুরো সংস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ায় শঙ্কিত ব্যবসায়ী মহল ও অর্থনীতিবিদরা। আমদানি-রপ্তানি বিলম্বিত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে।

শুক্রবার এনবিআরের পক্ষ থেকে এক নোটিশে বলা হয়েছিল, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এমন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চাকরি বিধির পরিপন্থী। এতে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, তারা অব্যাহত অবহেলা, পদোন্নতি-বৈষম্য ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন