রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দিনের বেলায় লিফটে ছিনতাই ও অস্ত্র হাতে কিশোর গ্যাংয়ের মহড়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের ভেতরে একাধিকবার ছিনতাই ও ভয়ভীতির ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ নিরুত্তর, আর পুলিশ দায় এড়িয়ে যাচ্ছে।
কমলাপুরের বাসিন্দা সুনন্দা সরকার জানান, স্বামীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসার পর লিফটে উঠেই কয়েক যুবকের হাতে ছুরির মুখে পড়েন তিনি। তারা মোবাইল, মানিব্যাগসহ নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে শিশু ওয়ার্ডে থাকা এক অভিভাবকেরও। তিনি বলেন, “আমার ওষুধ পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে ছিনতাইকারীরা।”
হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। লিফট ও ফ্লোরে নেই কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা বা নিরাপত্তাকর্মী। এমনকি দিনের আলোতেও হাসপাতালের ভেতর থাকে আধো অন্ধকার। মূল ফটকে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যের উপস্থিতি থাকলেও, কার্যত নজরদারি নেই।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, ৪০-৫০ জন কিশোর ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে মহড়া দেয়। পুলিশের একটি গাড়ি থাকলেও কেউ গাড়ি থেকে নামেনি।
স্থানীয় ফল বিক্রেতা মো. সোহেল বলেন, “প্রায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু ছিনতাই হয়। এসব করছে আশপাশের কিশোর গ্যাং। কিন্তু কেউ কিছু বলে না।”
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মেজবাউর রহমান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি ছুটিতে আছি, শান্তিতে থাকতে দিন।”
এদিকে মুগদা থানার ওসি মো. সাজেদুর রহমান বলেন, “আগে যেভাবে ছিনতাই হতো, এখন অনেক কমেছে। আমরা নিয়মিত টহল দিচ্ছি।”
কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। হাসপাতালের ভেতরে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের। স্থানীয়দের দাবি, কার্যকর নিরাপত্তা না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

