জর্ডান অনূর্ধ্ব-১৯ বাস্কেটবল দল ২০২৫ সালের যুব বিশ্বকাপে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক বিরোধের ছায়া ফের পড়লো এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে। কয়েক সপ্তাহের গুঞ্জনের পর অবশেষে আন্তর্জাতিক বাস্কেটবল ফেডারেশন (FIBA)-কে জর্ডান তাদের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
ম্যাচ বয়কট, ২০-০ ব্যবধানে জয় পাবে ইসরায়েল
ফলাফল অনুযায়ী, FIBA নিয়ম অনুসারে জর্ডান ম্যাচে অংশ না নেওয়ায় ইসরায়েল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২০-০ টেকনিক্যাল জয় পাবে। শনিবার রাতে ইসরায়েল সুইজারল্যান্ডকে ১০২-৭৭ ব্যবধানে হারালেও জর্ডান নিজেদের শেষ ম্যাচে ডোমিনিকান রিপাবলিকের কাছে পরাজিত হয়।
ইসরায়েল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আমোস ফ্রিশম্যান বলেন,
“জর্ডানের সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ। আমরা বিশ্বাস করি খেলাধুলা রাজনৈতিক বিভাজনের নয়, বরং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যম।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ক্রীড়াগত বয়কটের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং এতে জর্ডানের ভূমিকা। জানা গেছে, ইরান ইসরায়েলে হামলার সময় জর্ডানের আকাশসীমা ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করে তেল আবিব। পরে জর্ডানের সেনাবাহিনী ইরানের বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করে। বিষয়টি মুসলিম বিশ্বে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা কিংবা বিরোধিতা করা — দুটোই স্পর্শকাতর বিষয়। জর্ডানের এই সিদ্ধান্ত মুসলিম বিশ্বের একাংশে প্রশংসিত হলেও, আন্তর্জাতিক ক্রীড়ানীতির দৃষ্টিকোণ থেকে বিতর্কিত।
“ক্রীড়া সব সময় একতা আনতে পারে না—বিশেষ করে যখন তা ভূরাজনীতির উপরে পড়ে,” মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষক ড. রিমা খলিল।

