বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইমাম-খতিবদের বেতন পে-স্কেল অনুযায়ী, মসজিদ ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা চূড়ান্ত

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দেশের মসজিদ ব্যবস্থাপনায় একটি কেন্দ্রীয় নীতিমালা চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইমাম ও খতিবদের জন্য ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

রোববার রাজধানীতে জাতীয় হিফজুল কোরআন ও সীরাত প্রতিযোগিতা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি জানান,

“আমরা চূড়ান্ত নীতিমালা তৈরি করেছি। এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বেটিং’ (সমন্বয় ও যাচাই) প্রক্রিয়া চলছে। সেখান থেকে অনুমোদন এলে উপদেষ্টা পরিষদে তা পাস করে সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।”

ড. খালিদ বলেন, দেশে বর্তমানে আড়াই থেকে তিন লাখ মসজিদ রয়েছে, যার অধিকাংশই বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত। তবে করপোরেট বা আর্থিকভাবে সক্ষম মসজিদগুলো যাতে পে-স্কেল অনুযায়ী ইমাম-খতিবদের বেতন দিতে বাধ্য হয়, তার জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে।

“বেসরকারি মসজিদগুলোও এই নীতিমালার আওতায় আসবে। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই করে দেখা হবে মসজিদের আর্থিক সক্ষমতা আছে কি না। সক্ষমতা থাকলে পে-স্কেল মেনে চলতে হবে,” — বলেন তিনি।

নিজের অতীত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন,

“সরকারে আসার আগে আমি ১৬ বছর ধরে নিয়মিত খুতবা দিয়েছি। ইমাম-খতিবদের অভাব, বেদনা আমি জানি। আমরা দায়িত্বে থাকাকালীন তাদের জন্য যা যা করা দরকার, করবো।”

সম্মেলনে দেশের ধর্মভিত্তিক উদ্যোক্তা চেতনার অভাব নিয়েও কথা বলেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন,

“আমরা চাকরি করতে চাই, কিন্তু উদ্যোক্তা হতে চাই না—এটা আমাদের মানসিক দুর্বলতা। ছোট ব্যবসা দিয়েও শুরু করা যায়। আলেমরা যদি এ উদ্যোগে এগিয়ে আসেন, তবে দেশের অর্থনৈতিক চিত্র বদলাতে সময় লাগবে না।”

মসজিদভিত্তিক ইমাম-খতিবদের জন্য মানসম্পন্ন জীবনযাত্রা নিশ্চিতে সরকারের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন ধর্ম বিশ্লেষকরা। তবে বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সুশাসন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন