রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আরও ১১ ব্যাংকের ‘স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক, পাশে বিশ্বব্যাংক

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বেসরকারি খাতের আরও ১১টি ব্যাংকের সম্পদের গুণগত মান (Asset Quality Review – AQR) যাচাইয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা, বিশেষ করে খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি এবং বন্ধকী সম্পদের বাস্তব মূল্যায়ন করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবার এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংককে সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, “AQR-এর এই নতুন ধাপে ১১টি ব্যাংককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করতে পারব।”

যেসব ব্যাংকের AQR হবে এবার:

  1. ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ

  2. আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক

  3. ন্যাশনাল ব্যাংক

  4. বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক

  5. ইউসিবি

  6. আইএফআইসি ব্যাংক

  7. এবি ব্যাংক

  8. প্রিমিয়ার ব্যাংক

  9. এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক

  10. এনআরবি ব্যাংক

  11. মেঘনা ব্যাংক

এর আগে ADB (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক)-এর সহায়তায় ৬টি ব্যাংকের সম্পদের মান যাচাই করা হয়েছিল। ওই সময়ে আন্তর্জাতিক অডিট ফার্ম আর্নেস্ট অ্যান্ড ইয়াং এবং কেপিএমজি এ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ফলাফলের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করার উদ্যোগ নেয়। শুধু আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক রয়েছে এই প্রক্রিয়ার বাইরে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এবারও যদি কোনো ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল প্রমাণিত হয়, তবে সেই ব্যাংকের জন্য একীভূতকরণ, অবসায়ন বা অধিগ্রহণের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে কেউ যদি নিজস্ব সক্ষমতায় মূলধন ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হয়, তাকে সময় দেওয়া হবে।

সরকার এ প্রক্রিয়ায় আইনি জটিলতা এড়াতে গত মে মাসে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারি করেছে। এর আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে কোনো দুর্বল ব্যাংকের বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, একীভূত হওয়ার সম্ভাবনায় থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে খুব শিগগিরই নোটিশ পাঠানো হবে। তাতে একীভূত না হওয়ার যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যার সুযোগ দেওয়া হবে।

বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে দুর্বল ব্যবস্থাপনা, উচ্চ হারে খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতির কারণে অবস্থা নাজুক হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত AQR পরিচালনার মাধ্যমে আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন