বিতর্কিত ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার (১ জুলাই) রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির হয়ে তিনি জবানবন্দি দেন।
রাজধানীর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নুরুল হুদা নির্বাচন পরিচালনায় রাজনৈতিক প্রভাব, ভোট কারচুপি এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করার দায় নিজ কাঁধে নেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান আদালতে বলেন, “আসামি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে রাজি হন।” এরপর আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
এর আগে গত ২২ জুন উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার হন নুরুল হুদা। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজিত জনতা তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ঘটনার পরপরই আদালত তার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর আরও চারদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৮ সালের নির্বাচন ছিল ‘ভোটাধিকার হরণের পরিকল্পিত নাটক’। এ মামলায় আরও আসামি করা হয়েছে একই দায়িত্বে থাকা সাবেক সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, কাজী হাবিবুল আউয়াল, পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রতারণা ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

