বাংলাদেশে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ওপর চালানো বর্বর নির্যাতনের তথ্য ও চিত্র উঠে এসেছে গুম-সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের দ্বিতীয় অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে। মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনের একটি অংশে গুম-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং অন্তত ১৭ ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পদ্ধতিগত বর্ণনা উঠে আসে।
কমিশন বলছে, এসব গুম ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো ছিল “রাষ্ট্রযন্ত্রের কিছু অংশের পদ্ধতিগত চর্চা”, যা মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে সংঘটিত হতো।
চোখে পড়ার মতো নির্যাতন পদ্ধতি
প্রতিবেদনে উল্লেখিত কিছু নির্যাতনের পদ্ধতি যেমন:
-
ঘূর্ণায়মান চেয়ারে ঘোরানো, যাতে ভুক্তভোগীরা বমি ও অচেতন হয়ে পড়তেন।
-
পুলি-সিস্টেমে ঝুলিয়ে মারধর।
-
সাউন্ডপ্রুফ রুমে চিৎকার অপ্রকাশ্য করে নির্যাতন।
-
নখ উপড়ে ফেলা, যৌনাঙ্গে বৈদ্যুতিক শক, বাঁশ দিয়ে শরীরের ওপর চাপ।
-
ওয়াটার বোর্ডিং, ছাদের সঙ্গে ঝুলিয়ে শাস্তি প্রদান।
একাধিক ভুক্তভোগীর সাক্ষ্যে উঠে এসেছে, বন্দিশালার পরিবেশ ছিল চরম অমানবিক ও অপমানজনক। স্যানিটেশনের জন্য খোলা জায়গা, সিসিটিভি নজরদারি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি ছিল নিয়মিত ঘটনা।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নারী ভুক্তভোগীদের মুখোমুখি হতে হয়েছে যৌন নিপীড়ন, অপমানজনক হাসাহাসি এবং মানসিক ভাঙনের চেষ্টা। এক নারী জানান, নির্যাতনের ফলে তার পিরিয়ড শুরু হয়, এবং প্যাড চাওয়ায় তাকে কটূক্তি করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্যাতনের পরেও ভুক্তভোগীদের অনেকে এখনো ভুগছেন দীর্ঘমেয়াদি ট্রমা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতায়। অনেকের পরিবার ভেঙে গেছে, এবং ভবিষ্যতের স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহ থমকে গেছে।
কমিশনের দাবি, গুমের ঘটনার পর বিভিন্ন বাহিনী প্রমাণ ধ্বংসের চেষ্টা করলেও, ভুক্তভোগীদের সামঞ্জস্যপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্য ও শারীরিক চিহ্ন সংরক্ষিত ছিল, যা সত্যতা প্রমাণে সহায়ক হয়েছে।
কমিশন এই ঘটনার বিচার ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে বলেছে, গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করলে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও সংকটে পড়বে।

