দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন একাধিক স্পর্শকাতর ইস্যু ঘনীভূত, ঠিক তখনই হঠাৎ আলোচনায় চলে আসে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এ আলোচনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কিনা—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা।
গত কয়েকদিনে দেশের আলোচিত তিনটি ইস্যু—
-
কুমিল্লার মুরাদনগরে কথিত ধর্ষণ ও সংখ্যালঘু নির্যাতন,
-
বিমানবন্দরে অ্যামোনেশন ম্যাগাজিনসহ উপদেষ্টা গ্রেফতার,
-
এনবিআর কর্মকর্তাদের ‘অলআউট শাটডাউন’—
এসবই সরকারের জন্য চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় ‘প্রেসিডেন্ট অপসারণ’ ইস্যু সামনে আসায় কেউ কেউ এটিকে ‘ইস্যু ডাইভারশন’ বলে অভিহিত করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতে ‘জঙ্গি হামলা’, ‘ক্যাসিনো’, কিংবা স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি সামনে এনে সরকারগুলো বহুবার জনমতের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিয়েছে। এবারের ‘প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন’ ইস্যু ঠিক সে রকমই একটি কৌশল হতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত গুজব অনুসারে, প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করে খালেদা জিয়াকে বসানো হচ্ছে—যা সংবিধান অনুযায়ী অসম্ভব এবং বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও অস্বীকার করা হয়েছে।
বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, তারা সাংবিধানিক সংকট তৈরির কোনো ফাঁদে পা দিতে চায় না। তারা নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হতে চায় এবং এসব ‘গুজব’ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে। একইভাবে অন্যান্য বিরোধী দল, যেমন জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপিও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্ট অপসারণের জন্য নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া রয়েছে—যার মূল ভিত্তি সংসদ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদ বিলুপ্ত এবং স্পিকার পদত্যাগ করায় সেই পথ আপাতত কার্যকর নয়। সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্স ছাড়া প্রেসিডেন্ট অপসারণ আইনগতভাবে সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে বিতর্ক উসকে দিয়ে মূল সমস্যা—ধর্ষণ, দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ইত্যাদি—থেকে নজর সরানোর চেষ্টা চলছে কিনা, সেটিই এখন প্রশ্ন। বরং দেশের সামনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হচ্ছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।
একটি দায়িত্বশীল সরকার বা আন্দোলন যতটুকু না প্রতিক্রিয়া দেয়, তার চেয়েও বেশি জরুরি সময়োপযোগী, প্রমাণনির্ভর ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ। প্রেসিডেন্ট ইস্যুকে ঘিরে জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা থেকে সতর্ক থাকা জরুরি।

