রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মসজিদে তিলাওয়াত ও জিকিরের আদব

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ইসলামে মসজিদকে সর্বোচ্চ সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কোরআন ও সুন্নাহতে মসজিদ আবাদকারীদের প্রশংসা করা হয়েছে এবং মসজিদে ইবাদতে বাধাদানকে কঠিন গুনাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

কোরআনে আল্লাহ বলেন,

“আল্লাহর মসজিদসমূহ কেবল তারাই আবাদ করে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না।” (সুরা তাওবা: ১৮)

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, কেবল প্রাচীর নির্মাণ নয়, বরং মসজিদে ইবাদত, দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে তা জীবন্ত রাখাই মসজিদ আবাদ করার প্রকৃত অর্থ।

আল্লাহ বলেন,

“যে কেউ আল্লাহর নিদর্শনগুলোর সম্মান করে, তা তার অন্তরের তাকওয়ারই বহিঃপ্রকাশ।” (সুরা হজ্জ: ৩২)

এ প্রসঙ্গে আলেমরা বলেন, মুসলমানদের উচিত মসজিদে উচ্চস্বরে কথা না বলা, অপ্রয়োজনীয় হট্টগোল না করা এবং ইবাদতের সময় অন্যদের বিরক্ত না করা।

কোরআনে বলা হয়েছে,

“তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর মসজিদে তাঁর নাম স্মরণে বাধা দেয় এবং তা ধ্বংস করার চেষ্টা করে?” (সুরা বাকারা: ১১৪)

তাফসিরকার মুফতি শফী (রহ.) বলেন, “মসজিদকে ধ্বংস করা শুধু পাথর ভাঙা নয়—যেকোনো কর্মকাণ্ড, যা মানুষের ইবাদতে বাধা সৃষ্টি করে, সেটিও মসজিদ বিরান করার শামিল।”

আলেমগণ বলেন, মসজিদে জিকির, দোয়া বা তিলাওয়াত করা উত্তম, তবে তা যদি অন্য ইবাদতকারীদের বিঘ্নিত করে, তবে তা পরিহারযোগ্য। মসজিদ খালি থাকলে উচ্চস্বরে জিকির বা তিলাওয়াতে কোনো সমস্যা নেই।

বিভিন্ন মসজিদে সম্প্রতি আয়োজিত আলোচনা সভায় আলেমরা মসজিদের মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন,

“মসজিদকে রাজনীতি, অশ্রদ্ধা কিংবা বিশৃঙ্খলার স্থান নয় বরং তাকওয়া ও ইবাদতের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন