বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

গাজার শিশুরা মৃত্যুর মুখে: “শুধু খাবার পেলেই বাঁচতাম”—এক প্রজন্মের হৃদয়বিদারক গল্প

ডেস্ক রিপোর্ট।।

“শুধু একটু খাবার পেলেই বেঁচে যেত”—এই আর্তনাদ এখন গাজার হাজারো শিশুর জীবনের প্রতিচ্ছবি। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের কেন্দ্রে। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে শিশুদের জন্য প্রতিদিনই বেঁচে থাকা হয়ে উঠছে সংগ্রাম।

জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ জানায়, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ১৬,৭০০-এর বেশি শিশু অপুষ্টিজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের অনেকেই আর জীবিত নেই। মে মাসে এক মাসেই ৫,১১৯ শিশুকে তীব্র অপুষ্টি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে—যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় তিন গুণ বেশি।

ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক এদুয়ার বেইগবেদার বলেন, “প্রতিদিন গড়ে ১১২ শিশুকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। প্রতিটি মৃত্যুই প্রতিরোধযোগ্য ছিল। কিন্তু খাবার, পানি ও ওষুধের প্রবেশ ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে দেওয়া হয়েছে।” তিনি এটিকে একটি “মানবসৃষ্ট বিপর্যয়” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, অপুষ্টিতে কমপক্ষে ৬৬ শিশুর মৃত্যু ইতিমধ্যে ঘটেছে। তাদের দাবি, “ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে খাদ্য, দুধ ও ওষুধ আটকে দিয়ে ক্ষুধাকে অস্ত্রে পরিণত করেছে। এটি যুদ্ধাপরাধ।”

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (GHF)-ই একমাত্র সাহায্যপ্রদানকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু সহায়তা বিতরণের প্রতিটি কেন্দ্রে চলছে হামলা, গুলি ও বাধাদান। এতে আরও ঝুঁকিতে পড়েছে সাহায্যপ্রার্থীরা।

ক্রিস ডয়েল, আরব-ব্রিটিশ আন্ডারস্ট্যান্ডিং কাউন্সিলের পরিচালক বলেন, “GHF-এর সহায়তা কার্যক্রম মানবিকতার মৌলিক নীতিগুলোকেই লঙ্ঘন করেছে। এটি এখন আর সহায়তা নয়, অপমানের আরেক রূপ।”

এই সংকট আন্তর্জাতিক মহলের সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন তোলে: একটু খাদ্য, কিছু পানি, সামান্য ওষুধ পৌঁছে দেওয়া কি এতটাই কঠিন? যদি না হয়, তবে এই মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য—আর যারা চুপ করে থাকে, তারাও হয়ে ওঠে এই যুদ্ধের নীরব সহযোগী।

গাজার শিশুরা আজ প্রশ্ন রাখছে বিশ্ব বিবেকের দরজায়—আমরা কি আরেকটি প্রজন্ম হারানোর অপেক্ষায় আছি, নাকি এখনই মানবতার পক্ষ নিতে প্রস্তুত?

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন