যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে আগামী ১ আগস্ট থেকে। পাল্টা কূটনৈতিক তৎপরতায় নেমেছে বাংলাদেশ। শুল্ক এড়াতে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘উইন-উইন’ চুক্তির আশা করছেন কর্মকর্তারা।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম মঙ্গলবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠিতে শুল্ক আরোপের কথা জানানো হয়েছে। তবে এই শুল্ক আরোপের নির্দিষ্ট কারণ চিঠিতে ব্যাখ্যা করা হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বার্তা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন আগে থেকেই চীনের মতো কিছু দেশের ওপর শুল্ক বাড়ানোর মাধ্যমে “অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা” তৈরি করেছে। বাংলাদেশ এই তালিকায় পড়ল কি?
বাংলাদেশের বাণিজ্য বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থান করছেন। তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনায় বসেছেন।
এ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানও।
৯ জুলাই আরেক দফা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্যসহ বেশ কিছু খাতে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হারাতে পারে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা।
“৩৫% শুল্ক মানে বাংলাদেশি পণ্যের দাম অনেক বেড়ে যাবে মার্কিন বাজারে। এতে ক্রেতারা বিকল্প দেশের দিকে ঝুঁকতে পারেন,” বলছেন অর্থনীতি বিশ্লেষক ফারহানা তানজিমা।
চুক্তি না হলে বাংলাদেশি রপ্তানি খাত বড় ধাক্কা খেতে পারে। তবে সরকার এখনো আশাবাদী যে, এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে—যা উভয় দেশের জন্যই ‘উইন-উইন’ সমাধান।
প্রেস সচিবের ভাষ্য, “আমরা বিশ্বাস করি যুক্তরাষ্ট্রও বুঝবে এই শুল্ক শুধু আমাদের নয়, তাদের আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের জন্যও ক্ষতিকর।”

