বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার ১২ নেতাকর্মীকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ—সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে অবহেলা।
সোমবার (৭ জুলাই) ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ১২ জনকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই অব্যাহতির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
কারা বাদ পড়েছেন?
অব্যাহতি পাওয়া নেতারা হচ্ছেন:
শহীদুল আলম মামুন, সদস্য জুনায়েদ আলম বাগদাদ, আকিউজ্জামান কোয়েল, আলম বাদশা, মো. জোবায়ের আলম চৌধুরী, ফাহিম আহমেদ, সালেহ মাহমুদ, মো. নাজমুল ইসলাম, রায়হান হোসেন, সিফাত উল ইসলাম, আব্দুল্লাহ রায়হান এবং মাশফিক আলম ভূইয়া।
এদের মধ্যে অনেকে শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের দায়িত্বে ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে দায়িত্ব অবহেলার কথা বলা হলেও, নির্দিষ্টভাবে কী কী দায়িত্ব পালনে তারা ব্যর্থ হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংগঠনের কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়তা, কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়া এবং সাংগঠনিক সমন্বয়হীনতা এসবের অন্যতম কারণ।
ঢাবি ছাত্রদলের এই পরিবর্তনকে অনেকে দেখছেন সম্ভাব্য পুনর্গঠনের ইঙ্গিত হিসেবে। দীর্ঘদিন ধরেই ঢাবি শাখায় নিষ্ক্রিয়তা ও নেতৃত্বহীনতার অভিযোগ উঠছিল। এবারে হয়তো কেন্দ্রীয় কমিটি ঢাবিকে সংগঠনের একটি কার্যকর ইউনিট হিসেবে পুনর্গঠন করতে চাইছে।
ছাত্রদলের অভ্যন্তরে এই সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন এটি “দল গোছানোর প্রয়াস”, আবার কেউ বলছেন “ভিন্নমতের দমন”।
একজন বরখাস্ত নেতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন,
“আমরা দীর্ঘদিন সংগঠনের জন্য কাজ করেছি, কিন্তু হঠাৎ করে এভাবে বাদ দেওয়ার মধ্যে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি বর্তমানে বহুপক্ষীয় চাপের মুখে। ছাত্রদল, ছাত্রলীগ, বিভিন্ন বামধারার সংগঠন, এবং স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্মগুলো মাঠে রয়েছে। এর মাঝে ছাত্রদল চাইছে নতুন করে তার উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করতে।
এ পরিস্থিতিতে বড় পরিসরের পুনর্গঠন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সক্রিয়তা, এবং নতুন নেতৃত্ব তুলে আনার কৌশল হতে পারে এই অব্যাহতির পেছনে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের মূল কারণ।

