সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

১১ বছর পরও ভুলার নয় ব্রাজিলের ‘সেভেন আপ’ — বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক ভয়াবহ ট্রাজেডি

ডেস্ক রিপোর্ট।।

২০১৪ সালের ৮ জুলাই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের জন্য এক অমোচনীয় কালো অধ্যায়। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারিয়ে একদিকে যেমন জার্মানি উৎসব করেছে, অন্যদিকে সেই দুঃস্বপ্ন এখনও সেলেসাও সমর্থকদের মনে দগদগে ক্ষত হিসেবে রয়ে গেছে।

সেই মিনেইরাও স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া হারের ঘটনায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবল বিশ্বে ‘সেভেন আপ’ নামের একটি আতঙ্ক গড়ে ওঠে, যা মারাকানাজো ট্রাজেডির মতোই গভীর দাগ ফেলেছে।

১৯৫০ সালের মারাকানাজো ট্রাজেডি ছিল ব্রাজিলের প্রথম বড় পরাজয়, যেখানে ঘরের মাঠে উরুগুয়ের কাছে হারতে হয়েছিল তাদের। কিন্তু ৬৪ বছর পর মিনেইরাজো হারের ভয়াবহতা অনেক গুণে বেড়ে যায়, কারণ সে দিন ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস ও গর্ব এক ঝড়ে ভেসে গেল।

নেইমার থেকে শুরু করে দলের প্রবীণরা পর্যন্ত সবাই সেই দিনটির ব্যথা এখনও ভুলতে পারেননি। নেইমার ২০২২ বিশ্বকাপের আগে জানিয়েছিলেন, ‘ঘরের মাঠে এমন হার তার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন মুহূর্ত ছিল।’

তবে সে দিন ব্রাজিলের গোলরক্ষক হুলিও সিজার বলেছেন, ‘কখনো কখনো রাতে শুয়ে-matchটির কথা ভাবি, আর কল্পনা করি যেন আমার মৃত্যু সংবাদ আসে কারণ আমি সাত গোল খেয়েছি।’

জার্মান কোচ জোয়াকিম লো ও খেলোয়াড়রা ম্যাচ শেষে ব্রাজিলকে সম্মান দেখিয়েছিলেন। ম্যাটস হামেলসের ভাষায়, তারা খেলায় সিরিয়াস ছিলেন, কিন্তু ব্রাজিলের প্রতি সম্মান রেখে খেলেছিলেন।

১১ বছর পরও ব্রাজিল বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জিততে পারেনি। সাম্প্রতিক কোপা আমেরিকায় ফেভারিট থাকলেও কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিয়েছে তারা, যা ব্রাজিলিয়ান ফুটবল প্রেমিদের জন্য এক বড় ধাক্কা।

ব্রাজিলের জন্য ‘সেভেন আপ’ শুধু এক ম্যাচের হার নয়, এটা তাদের ফুটবলের ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়, যা বারবার ফিরে এসে তাদের জাতীয় পরিচয়কে চ্যালেঞ্জ করে। তবে সেই ব্যথা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আবার বিশ্ব শীর্ষে উঠাই এখন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের আসল চ্যালেঞ্জ।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন