রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে বড় ভাঙন, প্লাবিত এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ফেনী জেলার ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একাধিক স্থানে ব্যাপক ভাঙন ঘটেছে। এতে স্থানীয় শতাধিক গ্রামের হাজারো মানুষ বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেল থেকে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ শুরু করে। পরশুরামের চিথলিয়া ইউনিয়নের মধ্যম ধনীকুন্ডা, নোয়াপুর ও শালধর এলাকায় তিনটি এবং ফুলগাজীর দেড়পাড়া ও নাপিত কোনায় তিনটি ভাঙনের স্থান চিহ্নিত হয়েছে। সিলোনিয়া নদীর মির্জানগর ইউনিয়নের পশ্চিম গদানগর, জঙ্গলঘোনা, উত্তর মনিপুর দাসপাড়া ও মেলাঘর কবরস্থানের কাছে চারটি স্থানে বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বৃষ্টির পানিতে এমন ব্যাপক ভাঙনের মুখে পড়েছেন তারা। অনেকের বাড়ির নিচতলার পানিতে তলিয়ে গেছে, পাশাপাশি পানীয় জল ও খাদ্য সরবরাহেও সমস্যা হচ্ছে।

পরশুরামের মনিপুর এলাকার রাশেদুল ইসলাম বলেন, “বল্লামুখা বাঁধের পূর্ববর্তী ভাঙনের মেরামত কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।”

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল কাশেম জানান, তাঁরা ইতোমধ্যেই পাঁচটি ভাঙনের খবর পেয়েছেন এবং দ্রুত মাঠ পর্যায়ে তদন্ত ও মেরামত কাজ শুরু করেছেন। তিনি জানান, উজানের বৃষ্টির কারণে মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।

এদিকে, টানা ভারী বর্ষণে ফেনী শহরের ডাক্তারপাড়া, শহীদ শহিদুল্লা কায়সার সড়ক, পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস এলাকা, শাহীন একাডেমি, পাঠানবাড়ি, নাজির রোড, মিজান রোড, একাডেমি ও সদর হাসপাতাল মোড়সহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় দোকানপাট ও গৃহস্থালী মালামাল পানিতে ভেসে গেছে।

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান জানান, ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে যা বিগত বছরের সর্বোচ্চ। আগামী ২-৩ দিন জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন