সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

“সংস্কার শুধু আইএমএফের নয়, আমাদেরও প্রয়োজন”—অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

অর্থনীতির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অডিটিং ও একাউন্টিংয়ের মান উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আর্থিক খাতের সংস্কার কেবল বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফের চাপেই হচ্ছে না—সরকার নিজেও প্রয়োজন বুঝে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত ‘অডিট অ্যান্ড একাউন্টিং সামিট’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন,

“অনেকেই সংস্কারকে বাইরের চাপ হিসেবে দেখছেন, অথচ আমরা নিজেরাও জানি যে অডিট, স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা ছাড়া টেকসই অর্থনীতি সম্ভব নয়।”

প্রাক্তন গভর্নর সালেহউদ্দিন আরও বলেন,

“বেশিরভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবমিট করা অডিট নথির মান নিম্নমানের। এনবিআরের তথ্যমতে, করদাতাদের ৭০ ভাগই শূন্য আয় দেখায়—এটা গ্রহণযোগ্য নয়। সঠিক অডিট ছাড়া এসব বিশ্লেষণ অসম্ভব।”

অনুষ্ঠানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন বলেন,

“যেসব অডিট ফার্ম বড় বড় আর্থিক অনিয়ম আড়াল করেছে, তাদের নাম প্রকাশ হলেও দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা হয়নি। যেমন—আইএফআইসি ব্যাংকে ভুয়া কোম্পানির অডিট রিপোর্ট ব্যবহার করে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ আছে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন,

“অডিট রিপোর্টের ভিত্তিতে যদি বিচার হয়, তবে অনেক স্বচ্ছ অডিটরই পাওয়া যাবে না।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান,

“২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ‘রিস্ক বেসড সুপারভিশন’ পদ্ধতি পুরোপুরি কার্যকর হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করবে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, সরকারি চার প্রতিষ্ঠানে অডিটের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হয়নি, যা উদ্বেগজনক।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন,

“যদি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাই, তাহলে অডিটিং ও একাউন্টিং খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন