নোয়াখালী জেলায় টানা ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় ১,৮০০টিরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস ও পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার (৯ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসরাত নাসিমা হাবীব জানান, আগামী শনিবার (১২ জুলাই) পর্যন্ত জেলার ১,২৫৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে। তবে বিদ্যালয়সমূহে মালামাল রক্ষায় শিক্ষকরা উপস্থিত থাকবেন।
অন্যদিকে, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, বৃষ্টির কারণে জেলার পাঁচ শতাধিক মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে আপডেট করা হবে।
জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ২৪ ঘণ্টায় ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিপাতে নোয়াখালী সদরসহ সুবর্ণচর, সেনবাগ, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে গেছে। এতে ঘরবাড়ি, সড়কপথ, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানির নিচে চলে গেছে, জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, “জলাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। মোবাইল বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্ল্যান্ট, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, জরুরি চিকিৎসা ও আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন সেলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, সকল উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে দুর্যোগ মোকাবিলায় তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী এলাকায় নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

