প্রতি মিনিটে একটি সুস্থ হৃদপিণ্ড ৫-৬ লিটার রক্ত পাম্প করে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। কিন্তু যান্ত্রিক জীবনের চাপ, অবহেলা ও অনিয়ন্ত্রিত অভ্যাসের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির উপরেই নেমে আসে চরম সংকট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, হৃৎপিণ্ডের করোনারি আর্টারিতে চর্বি, ক্যালসিয়াম ও জমাট উপাদান জমে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়। এতে অক্সিজেন সংকটে পড়ে হৃদপেশি, যার ফলে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি হয়।
হৃদরোগের কারণ
বিশেষজ্ঞরা জানান, হৃদরোগের পেছনে মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
-
ধূমপান ও মাদক সেবন
-
অতিরিক্ত মানসিক চাপ
-
অনিয়মিত জীবনযাপন
-
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ
-
কিডনি সমস্যা
-
পারিবারিক ইতিহাস
এছাড়া জন্মগত ত্রুটি কিংবা জিনগত কারণেও কারো হৃদপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
লক্ষণ যেগুলো এড়িয়ে যাওয়া বিপজ্জনক
-
বুকের মাঝখানে চাপ অনুভব
-
বাম হাতে ব্যথা নেমে আসা
-
ঘামাচ্ছি ও শ্বাসকষ্ট
-
মুখ বা পায়ে ফোলাভাব
-
হেঁটে বা সিঁড়ি ভাঙার সময় বুকব্যথা
হার্ট সুস্থ রাখার উপায়
-
খাবারে অতিরিক্ত লবণ ও চর্বি পরিহার করুন
-
ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকুন
-
নিয়মিত ব্যায়াম করুন
-
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
-
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন
-
পারিবারিক ইতিহাস থাকলে সময়মতো স্ক্রিনিং করান
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “হৃদরোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা। হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগেই সতর্ক হন। কারণ, হৃৎপিণ্ড অপেক্ষা করে না।”
সূত্র: অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধান, শিশু কার্ডিওলজি বিভাগ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

