বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আলোহীন কক্সবাজার-খুরুশকুল সেতু: ভুতুড়ে পরিবেশে আতঙ্কিত পথচারীরা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর ওপর নির্মিত কক্সবাজার-খুরুশকুল সংযোগ সেতু দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা হিসেবে উদ্বোধনের পরপরই পর্যটকদের আকর্ষণ কেন্দ্রে পরিণত হলেও, সন্ধ্যা নামলেই সেতুটি যেন অন্ধকারের দ্বীপে পরিণত হয়। ২৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুতে দীর্ঘদিন ধরে নেই কোনো কার্যকর আলোবাতি, ফলে পথচারীরা পড়ছেন নিরাপত্তাহীনতায়।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, দিনে সেতুর পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলেও, সন্ধ্যার পর সেতুর উপর দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, অন্ধকারে ছিনতাই, মাদকসেবীদের আনাগোনা এবং নিরাপত্তার অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে।
“সন্ধ্যার পর সেতু পার হতে ভয় লাগে। বাতি থাকলেও তা জ্বলে না,” — বলেন খুরুশকুলের বাসিন্দা মুবিনুল হক।

পথচারীরা বলছেন, সেতুতে আলো না থাকায় ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটছে। জনশ্রুতি রয়েছে, কিছু মাদকসেবী দল রাতের অন্ধকারে এখানে অবস্থান নিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালায়।
এক সিএনজি চালক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, “রাত হলে অনেকেই কাজ শেষে ফিরতে গিয়ে বিপদে পড়েন। ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে এই সেতু পার হতে হয়।”

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এলজিইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেতুতে স্থাপন করা বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়ে যাওয়ায় বাতিগুলো আর চালু রাখা সম্ভব হয়নি।
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান বলেন, “মাদকাসক্তদের দ্বারা তার চুরির আশঙ্কা থাকায় নতুন করে নিচ দিয়ে তার বসানো ঝুঁকিপূর্ণ। বিকল্প হিসেবে উপরের দিকে লাইন টেনে আলো বসানোর প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে।”

কক্সবাজার চেম্বার সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, “এই সেতু খুরুশকুল অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলেছে। কিন্তু আলো না থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে এলাকাবাসী ও পর্যটকরা, যা দীর্ঘমেয়াদে এই সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।”

খুরুশকুল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন বলেন, “শুধু একটি আলো নয়, পুরো সেতুতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এত বড় প্রকল্পে আলোর অভাব দুঃখজনক ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি।”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন