জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনের পটভূমিতে সংঘটিত দুইটি আলোচিত মামলার আসামিদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। রোববার সকালে পৃথক প্রিজনভ্যানে করে রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা এবং ঢাকার আশুলিয়ায় গণহত্যা ও মরদেহ পোড়ানোর মামলার অভিযুক্তদের ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ, যিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে উত্তাল হয়ে ওঠে শিক্ষার্থী ও জনসাধারণ।
এই ঘটনার পর আন্দোলন আরও জোরালো হয় এবং ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলতে থাকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি।
আলোচিত এই মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন—বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী—কে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
বাকি ২৬ পলাতক আসামির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
একই সময়ে ঢাকার আশুলিয়ায় সংঘটিত এক গণহত্যা মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২ জুলাই দায়ের হওয়া এ মামলায় ছয়জনের মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে আসে।
আসামিদের মধ্যে পলাতক রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ আরও সাতজন। তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এই দুটি ঘটনা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে বড় ধরনের রাজনৈতিক এবং মানবাধিকার সংকটের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ নিয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলাগুলো বিচারাধীন থাকলেও, সারাদেশে আন্দোলন এবং এর ধাক্কা দীর্ঘ সময়জুড়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলেছে।

