পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে broad daylight-এ সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড এখন আর শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়—তা হয়ে উঠেছে ক্ষমতা ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার নতুন রাজনৈতিক উপকরণ। একদিকে লালচাঁদ ওরফে সোহাগের নৃশংস মৃত্যু, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও, এবং তার থেকেও বেশি—যেভাবে ঘটনাটি “ব্যবহার” হচ্ছে, তা নিয়েই আজ প্রশ্ন।
সাবেক সামরিক কর্মকর্তা অব. লে. কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমান ও প্রবাসী বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, ভিডিওর কোণ, ক্যামেরার অবস্থান ও চিত্রগ্রহণের ‘পেশাদারিত্ব’ ইঙ্গিত দেয় যে, এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদ।
“এটা কোনো হঠাৎ করা খুন না। ক্যামেরাম্যান জানতো কোথায় দাঁড়ালে সব পরিষ্কার দেখা যাবে,” — মন্তব্য করলেন কর্নেল মুস্তাফিজ।
ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি পাথর ছুঁড়ে মারছে, আরেকজন ঠাণ্ডা মাথায় তা ধারণ করছে। প্রশ্ন উঠেছে—এত বীভৎস দৃশ্যেও কেউ কেন হস্তক্ষেপ করলো না? এটা কি ছিল ভয়, না পূর্বনির্ধারিত দায়িত্ব?
এক খুন, দুই ব্যাখ্যা
১. গোয়েন্দা ফাঁসানোর তত্ত্ব:
কিছু সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকের দাবি, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিএনপিকে জনমনে ‘ঘৃণ্য ও সহিংস’ হিসেবে উপস্থাপন করতে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
তাদের ভাষায়,
“একই দিনে, একই কৌশলে, একাধিক শহরে একইরকম প্রতিক্রিয়া—এটা কাকতালীয় নয়।”
২. দলীয় কোন্দল তত্ত্ব:
অন্যদিকে প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন ও পিনাকী ভট্টাচার্যের মতে, বিএনপির ভেতরের কোন্দল ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট এমন হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী।
তাদের দাবি,
“বাইরের শত্রুর চেয়ে ভেতরের দুর্বৃত্তরাই এখন বেশি বিপজ্জনক।”
সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে—রাজনীতির নামে, ক্ষমতা দখলের খেলা কি মানুষের জীবনকে নিছক প্রপস করে তুলেছে?
একজন শিক্ষার্থী বলেন,
“আমরা ভিডিওতে হত্যাকাণ্ড দেখি, বিচার দেখি না। ভিডিও ভাইরাল হয়, দোষী গায়েব হয়।”

