২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষায় অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার এক আলেম পরিবার। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পেয়েছে পরিবারের তিন মেয়ে—জমজ দুই বোন ফাওজিয়া তারান্নুম ও তাহিয়া তাবাসসুম এবং তাদের বড় বোন উম্মে আতিয়া উমামা। তিনজনই হয়বতনগর এ ইউ কামিল মাদরাসার মুজাব্বিদ বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
এই নজিরবিহীন সাফল্যে মাদরাসা জুড়ে যেমন আনন্দের জোয়ার বইছে, তেমনি স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝেও ব্যাপক উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে পড়েছে।
তিন বোনের পিতা মাওলানা মো. আলীম উদ্দিন করিমগঞ্জ উপজেলার আলহাজ্ব রঙ্গু খান মেমোরিয়াল মহিলা আলিম মাদরাসার সহকারী মাওলানা হিসেবে কর্মরত। মা নূরুন্নাহার একজন গৃহিণী। তাদের বড় ভাই রাকিবুল হাসান সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি করছেন, বড় দুই বোন সুমাইয়া আক্তার ও উসরাত জাহান মারিয়া কামিল পর্যায়ে অধ্যয়নরত, এবং ছোট ভাই নকবিল হোসাইন হেফজ বিভাগে পড়াশোনা করছে। পরিবারটি যেন একটি শিক্ষার আদর্শ ঘর।
মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, “এই তিন বোন শুরু থেকেই অত্যন্ত মনোযোগী ও মেধাবী। তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা এবং পারিবারিক মূল্যবোধ আজকের শিক্ষার্থীদের জন্য উদাহরণস্বরূপ।”
নিজেদের স্বপ্ন প্রসঙ্গে জমজ বোন ফাওজিয়া ও তাহিয়া বলেন, “আমরা ভবিষ্যতে বিচারক হতে চাই। ন্যায়ের ভিত্তিতে একটি সুন্দর সমাজ গড়তে চাই।”
অন্যদিকে বড় বোন উম্মে আতিয়া উমামা বলেন, “আমার লক্ষ্য শিক্ষকতা। আমি পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চাই, যেন তারাও স্বপ্ন দেখতে ও সফল হতে শেখে।”
তাদের বাবা মাওলানা আলীম উদ্দিন বলেন, “আমার সন্তানেরা ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আধুনিক শিক্ষায় সমন্বিতভাবে গড়ে উঠছে—এটাই আমাদের বড় পাওয়া। আজ তাদের সাফল্যে আমরা গর্বিত।”
এই অর্জন শুধু একটি পরিবারের নয়—এটি পুরো সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

