রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

এই দিনে শেখ হাসিনার কটাক্ষ বাক্যে ফুঁসে ওঠে বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

২০২৪ সালের ১৪ জুলাই—বাংলাদেশের শিক্ষানীতিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় একটি দিন হয়ে আছে। কোটা সংক্রান্ত এক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাতভর বিক্ষোভ ও পদযাত্রায় অংশ নেয়, যা সময়ের সাথে পরিণত হয় একটি গণআন্দোলনের রূপে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা না পেলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা চাকরি পাবে?” এই মন্তব্যকে কটাক্ষমূলক ও অসম্মানজনক মনে করে ছাত্রসমাজ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়।

১৪ জুলাই রাত ১০টা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। মধ্যরাতে হলের তালা ভেঙে বেরিয়ে আসেন ছাত্রীরা, ছাত্ররাও মিছিলে যোগ দেন। ‘তুমি কে আমি কে – রাজাকার রাজাকার’, ‘কে বলেছে কে বলেছে – স্বৈরাচার স্বৈরাচার’—এই স্লোগানে মুখর হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা।

ঢাকা ছাড়িয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, জগন্নাথসহ অন্তত ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কোথাও কোথাও ছাত্রলীগ ও পুলিশের বাধা পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নেয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের উপর হামলার অভিযোগও উঠে আসে।

বেলা ১২টায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে শুরু হয় পদযাত্রা, যা শাহবাগ, হাইকোর্ট হয়ে জিরো পয়েন্টে গিয়ে অবস্থানে রূপ নেয়। যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। বেলা ৩টার দিকে ছাত্রদের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়। স্মারকলিপিতে ছিল—কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবি ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান।

তারা সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়, দাবি মানার জন্য।

সদ্য গৃহীত আন্দোলনের মাঝে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়, যাতে কোটা পুনর্বহালের নির্দেশনা বহাল থাকে। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরও ক্ষোভ সৃষ্টি করে।

১৪ জুলাইয়ের আন্দোলন শুধু একটি বক্তব্য বা কোটার দাবির প্রতিবাদ ছিল না—এটি ছিল ছাত্রসমাজের আত্মপরিচয়ের লড়াই, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার এক উচ্চকণ্ঠ প্রতিবাদ।

আজও সেই দিনের স্লোগান, সাহস, আর প্রত্যয়ের প্রতিধ্বনি শোনা যায় শিক্ষাঙ্গনে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন