ইসলামের ইতিহাসে বহু হৃদয়স্পর্শী ঘটনা রয়েছে। তবে হজরত হামজা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনাটি একদিকে যেমন আবেগঘন, অন্যদিকে তেমনি তা ইসলামের ইতিহাসে এক মোড় ঘোরানো অধ্যায়ও বটে।
মক্কার অন্যতম বীরপুরুষ ও নবিজি মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচা এবং দুধভাই হামজা (রা.) যখন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন ইসলামী আন্দোলন ভয়াবহ নির্যাতনের মুখে। কিন্তু তার embracing of Islam মুসলমানদের জন্য হয়ে ওঠে আশার আলো।
নবুয়্যতের ষষ্ঠ বছরে কাবার কাছে নবিজিকে (সা.) অপমান ও আঘাত করে মুশরিক নেতা আবু জাহল। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন এক দাসী। তিনি এটি হামজা (রা.)-কে জানালে উত্তেজিত হয়ে হামজা সোজা কাবায় গিয়ে আবু জাহলের মাথায় আঘাত করেন। সেসময় তিনি বলে ওঠেন—
“তুমি আমার ভাতিজাকে গালি দাও—অথচ আমিও তার ধর্ম অনুসরণ করি!”
এই ঘোষণা তখনও আবেগের বশে দেওয়া হলেও, রাতভর মানসিক দ্বন্দ্বে কাটে তার। পরদিন নবিজির (সা.) কাছে গিয়ে সত্যের সন্ধান চাইলে, নবিজির কথা শুনে তার হৃদয় প্রশান্ত হয়। অবশেষে তিনি বলেন—
“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমি সত্যবাদী। আমি এখন এমন এক ধর্মে প্রবেশ করছি যা ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”
হামজার (রা.) ইসলাম গ্রহণে নবিজির (সা.) প্রতি নির্যাতনের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে সাহস জোগায় মুসলমানদের। আগে যারা ভয়ে নিজেদের ঈমান গোপন রাখতেন, তারাও সাহস করে ইসলামের কথা জানান দিতে শুরু করেন।
ইতিহাসবিদরা বলেন, হজরত হামজা (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণ ইসলামের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তিকে অনেক শক্তিশালী করে তোলে।
পরবর্তীতে তিনি বদর, উহুদসহ গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং উহুদ যুদ্ধে শহীদ হন। তাকে ইসলামের প্রথম শহীদদের অন্যতম বলে গণ্য করা হয়।

