বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্রুতই একটি জাতীয় নির্বাচনের পথে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এক বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছি।”
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি প্রধান লক্ষ্য— সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন— এই তিনটি খাতেই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
“রিফর্ম বলতে শুধু কয়েকটি বৈঠক নয়,” বলেন শফিকুল। “যেকোনো রাজনৈতিক সংস্কার সময়সাপেক্ষ। অন্য অনেক দেশের ইতিহাস দেখলেই বোঝা যায়, গণতান্ত্রিক কাঠামো ঢেলে সাজাতে দীর্ঘ সময় লাগে। আমরা চেষ্টা করছি, সেই প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ গতিতে এগিয়ে নিতে।”
আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বলেন, “আমাদের দায়িত্ব হলো একটি স্থিতিশীল, বিশ্বাসযোগ্য প্রশাসন ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের হাতে তুলে দেওয়া।”
এ প্রসঙ্গে শফিকুল জানান, সরকারের লক্ষ্য একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো রেখে যাওয়া, যা নতুন সরকারকে কার্যকরভাবে পরিচালনার সুযোগ দেবে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করা জরুরি বলে মনে করেন প্রেস সচিব। তবে তিনি জানান, “ঘটনার পরপরই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার হচ্ছে—এটাই ইতিবাচক দিক।”
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে পুলিশের মনোবল যেখানে দুর্বল ছিল, সেখানে এখন দৃশ্যমান অগ্রগতি এসেছে। ঢাকা মহানগরীর ৩৫ হাজার সদস্যের মধ্যে ৩২ হাজারকেই বিভিন্ন জেলায় পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, যাতে সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
বর্তমান প্রশাসন সব রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত সমর্থনে গঠিত, এমন দাবি করে শফিকুল আলম বলেন, “আমরা বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছি। রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত সমর্থন ছাড়া এসব পদক্ষেপ সম্ভব হতো না।”
তিনি আরও বলেন, “যদিও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবুও আমাদের লক্ষ্য একটাই—দেশকে শান্তিপূর্ণভাবে একটি নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাওয়া।”

