সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

পাঁচ দিনের ব্যবধানে আবারও বাড়ল ডলারের দাম

ডেস্ক রিপোর্ট।।

টানা চার দিন কমার পর আবার বাড়ল ডলারের দাম। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত হস্তক্ষেপ এবং বাজারে ডলারের সরবরাহ কাঠামোতে পরিবর্তনের কারণে এই উল্টো ধারা দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বিশ্লেষকরা।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) একদিনেই ডলারের গড় বিক্রয়মূল্য বেড়েছে ১ টাকা ৪০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, এদিন ডলারের সর্বোচ্চ মূল্য দাঁড়ায় ১২১ টাকা ৫০ পয়সা, যা সোমবার ছিল ১২০ টাকা ১০ পয়সা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার কিনে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দেয়, যাতে ডলারের দরপতন রোধ করা যায়। ফলে চাহিদা-জোগানের ভারসাম্য ফেরত আসায় দাম বাড়তে শুরু করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, “রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়লেও ডলারের চাহিদা নিয়ন্ত্রিত থাকায় কিছুদিন দর কমেছিল। তবে দাম ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সক্রিয় হয়েছে।”

২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে এসেছে নতুন রেকর্ড—৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ২৭% বেশি। এতে রিজার্ভও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে—গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪,০৮৭ কোটি ডলারের, বিপরীতে আমদানি হয়েছে ৬,০২৫ কোটি ডলারের। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১,৯৩৮ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ কম।

গত বছরের ডিসেম্বরে দুই দিনে ডলার ১২৮ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সেই ধাক্কা সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছু ব্যাংককে তলব করে এবং ডলার কেনা-বেচায় বিধিনিষেধ আরোপ করে। এবার পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে সক্রিয় রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, “স্বল্পমেয়াদে ডলারের দর উঠানামা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভের ইতিবাচক ধারা স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে।”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন