বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে গুজব ও মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে পড়ছে আগের চেয়ে অনেক দ্রুত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই না করেই নানা তথ্য শেয়ার করা হয়ে থাকে, যার ফলে ব্যক্তির মর্যাদা, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক শান্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অথচ ইসলাম এই কাজকে বড় গুনাহ হিসেবে গণ্য করেছে।
পবিত্র কোরআন ও হাদিসে গুজব ও অপবাদ ছড়ানোর ব্যাপারে রয়েছে কঠোর সতর্কবাণী।
সুরা হুজুরাতের ৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—
“হে মুমিনগণ! যদি কোনো ফাসেক ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করো, যাতে তোমরা অজান্তে কোনো সম্প্রদায়কে কষ্ট না দিয়ে বসো এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত না হও।”
এই আয়াতের আলোকে ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, সংবাদ যাচাই না করে প্রচার করা শুধুই বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যর্থতা নয়, বরং এটি একটি নৈতিক অপরাধ এবং সামাজিক অবক্ষয়ের উৎস।
সহিহ মুসলিম শরিফে বর্ণিত একটি হাদিসে আবু হোরায়রা (রা.) থেকে জানা যায়,
“মানুষ যা শোনে তাই যাচাই ছাড়া বর্ণনা করা মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট।” (সহিহ মুসলিম: ১)
এছাড়া সুনানে আবু দাউদে নবিজি (সা.) বলেন—
“অনেক কথা মানুষ সত্য কিনা তা যাচাই না করে শুধু হাস্যরসের জন্য প্রচার করে, অথচ এই কাজই তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার জন্য যথেষ্ট।” (আবু দাউদ: ৪৯৯০)
নবিজি (সা.) বিদায় হজের ভাষণে যেমনভাবে জান-মালের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার গুরুত্ব দিয়েছেন, তেমনিভাবে কারো মানহানিও হারাম ঘোষণা করেছেন। সহিহ বুখারির ১৭৩৯ নম্বর হাদিসে তিনি বলেন—
“নিশ্চয়ই আপনাদের পরস্পরের রক্ত, সম্পদ ও মর্যাদা সম্মানিত (নষ্ট করা হারাম), যেমন সম্মানিত এই দিন, এই মাস ও এই শহর।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, গুজব শুধু ব্যক্তিকে নয়, পুরো সমাজকে অস্থির ও বিভ্রান্ত করে তোলে। সামাজিক অস্থিরতা, গুজবঘেরা সহিংসতা এমনকি রাজনৈতিক অপচেষ্টারও অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে এটি।
ধর্মীয় বিশ্লেষকরা বলেন, গুজব ও অপবাদ ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হলে নিম্নলিখিত বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি:
-
খবর শোনার পর যাচাই-বাছাই করা
-
সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো তথ্য শেয়ারের আগে বিশ্বাসযোগ্য উৎস নিশ্চিত করা
-
অপপ্রচারে না জড়িয়ে ইতিবাচক ও গঠনমূলক কথাবার্তা বলা
-
অন্যের সম্মান রক্ষার বিষয়ে সংবেদনশীল হওয়া

