বৃষ্টি আল্লাহর অফুরন্ত রহমতের নিদর্শন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আসমান থেকে বরকতময় পানি বর্ষণ করে মহান আল্লাহ কল্যাণ ও রিজিকের ব্যবস্থা করেন। অনেকে মনে করেন, প্রবল বৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ভিজে গেলে অজু হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী এর সঠিক ব্যাখ্যা কী?
সুরা কাফের ৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
“আর আমি আসমান থেকে বরকতময় পানি বর্ষণ করেছি। অতঃপর তা দ্বারা আমি উৎপন্ন করি বাগ-বাগিচা ও কর্তনযোগ্য শস্যদানা।”
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, বৃষ্টির পানি পবিত্র এবং তা বরকতপূর্ণ। তবে প্রশ্ন হলো—এতে ভিজলেই কি অজু সম্পন্ন হয়ে যায়?
‘অজু’ শব্দটি আরবি ‘ওদু’ থেকে এসেছে, যার অর্থ পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা। শরিয়তের দৃষ্টিতে অজু হলো একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চারটি অঙ্গ ধৌত করা—
১. মুখমণ্ডল,
২. দুই হাত কনুই পর্যন্ত,
৩. মাথার এক চতুর্থাংশ মাসহ,
৪. দুই পা গোঁড়ালি পর্যন্ত।
এই অঙ্গগুলো যদি সম্পূর্ণরূপে ধৌত না হয়, তবে অজু শুদ্ধ হবে না। এমনকি অল্প অংশ শুকনো থাকলেও পুনরায় অজু করতে হয়। (দুররুল মুখতার: ১/৩৩২)
ইসলামি স্কলারদের মতে, প্রবল বৃষ্টিতে শরীরের উপরোক্ত অঙ্গসমূহ যদি সম্পূর্ণভাবে ভিজে যায়, তাহলে তা গোসলের মতো গণ্য হতে পারে। আর যেহেতু গোসল অজুর চেয়ে পূর্ণাঙ্গ, তাই এমন গোসলের মাধ্যমে অজুও সম্পন্ন হয়ে যেতে পারে।
তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো—
-
শরীরের অজুর ফরজ অঙ্গগুলো পুরোপুরি ভিজতে হবে
-
অজু ভঙ্গের কোনো কারণ বিদ্যমান না থাকতে হবে
-
পানি সরাসরি অঙ্গে পৌঁছাতে হবে (কাপড় না থাকলে ভালো)
অজুতে নিয়ত করা সুন্নত। তবে ইমামদের একটি অভিমত হলো—নিয়ত না করলেও যদি অজুর ফরজ অঙ্গসমূহ ধৌত হয়ে যায়, তাহলে অজু শুদ্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে অজুর উদ্দেশ্যে নিয়ত থাকলে সওয়াব ও গুরুত্ব বেশি পাওয়া যাবে।
বৃষ্টির পানি নিঃসন্দেহে পবিত্র। যদি তা শরীরের অজুর অঙ্গগুলোতে সরাসরি পৌঁছায় এবং সম্পূর্ণ ভিজিয়ে দেয়, তাহলে তা অজুর বিকল্প হতে পারে। তবে নিশ্চিতভাবে অজু আদায়ের জন্য নির্ধারিত নিয়মে অজু করাই উত্তম ও নিরাপদ।

