ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নগর উন্নয়নের অগ্রগতি মূল্যায়নে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ ‘উন্নয়ন ও অগ্রগতি প্রতিবেদন’ তৈরি করছে। নগর পরিকল্পনা থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ থেকে খেলার মাঠ—সব খাতে কীভাবে বদল আনছে প্রতিষ্ঠানটি, সেই গল্প এবার রেকর্ডে আসবে। ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করা হয়েছে এই উদ্দেশ্যে।
ডিএসসিসির সচিব মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সই করা আদেশে জানানো হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেসব বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে বা পরিকল্পনায় আছে, সেগুলোর বাস্তবচিত্র, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা এই প্রতিবেদনে উঠে আসবে।
ডিএসসিসির প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই চার সদস্যের কমিটিতে আরও রয়েছেন:
-
সদস্য সচিব: সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ডিএসসিসি
-
সদস্য: প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ
-
সদস্য: জনসংযোগ কর্মকর্তা
এই কমিটির কাজ হবে সব বিভাগ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন তৈরি করা, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নীতিনির্ধারণেও সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, নগরবাসীর মধ্যে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বাড়াতেই এই প্রতিবেদন প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া জলাবদ্ধতা, খাল পুনরুদ্ধার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিম্নআয় ও বস্তি উন্নয়ন, এবং খেলার মাঠ রক্ষার মতো বিষয়গুলোতে বাস্তব অগ্রগতি কতটা হয়েছে—তা পরিমাপ করাও হবে এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই ধরণের অগ্রগতি প্রতিবেদন একটি বড় পদক্ষেপ, তবে তা কেবল সফল হবে যদি বাস্তব তথ্য ও নাগরিক মতামত এতে যুক্ত করা হয়।
“ঢাকা বদলাচ্ছে—এটা শুধু স্লোগানে নয়, প্রমাণে পরিণত করতে হলে এ ধরনের প্রতিবেদনকে কার্যকর ও খোলামেলা হতে হবে,” — বলেন নগর বিশেষজ্ঞ স্থপতি ইশরাত জাহান।
এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে প্রতি বছর ডিএসসিসির কাজের একটি “নগর বার্ষিকী” প্রকাশ সম্ভব হবে, যা আন্তর্জাতিক মানের নগর পরিচালনার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

