গোপালগঞ্জে এনসিপির একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা সাদিক কাইয়ুম। হামলার জন্য তিনি ছাত্রলীগকে দায়ী করে ফেসবুকে এক বিবৃতিতে দেশবাসীকে ‘প্রস্তুত’ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে দেওয়া স্ট্যাটাসে সাদিক কাইয়ুম লিখেছেন,
“গোপালগঞ্জকে আমরা দিল্লির কাছে ইজারা দেইনি। আমার সহযোদ্ধাদের ওপর ন্যূনতম আঘাত এলে পুরো বাংলাদেশের জনগণ গোপালগঞ্জকে পতিত ফ্যাসিস্টের কব্জা থেকে স্বাধীন করবে ইনশাআল্লাহ।”
তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রশাসন ও যৌথবাহিনীর তৎপরতা আশাব্যঞ্জক নয়, এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
সূত্র জানায়, গোপালগঞ্জে এনসিপি (ন্যাশনাল কনজারভেটিভ পার্টি)-এর স্থানীয় পর্যায়ের একটি সভায় হঠাৎ করেই হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কয়েকজন মুখোশধারী যুবক অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে অন্তত ৭ জন আহত হন। এনসিপির অভিযোগ, এ হামলায় ছাত্রলীগ জড়িত, যদিও ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন।”
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা মাথায় রেখেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সাদিক কাইয়ুমের এমন মন্তব্য শুধু প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি বার্তা। রাজনৈতিক মাঠে একটি শক্তির উপস্থিতি জানান দিতে ছাত্রশিবির এখন সোশ্যাল মিডিয়া এবং স্থানীয় ঘটনাগুলোকে কৌশলে ব্যবহার করছে।
অন্যদিকে, এনসিপির রাজনৈতিক উত্থানকে কেন্দ্র করেও নানা মহলে আলোচনা চলছে।
“এই মুহূর্তে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা এবং সংঘর্ষ এড়ানোই সবচেয়ে জরুরি,”— বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

