বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

৪০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী গাজীর সম্পত্তি ক্রোক

ডেস্ক রিপোর্ট।।

জমি দখল, হুন্ডি, জালিয়াতি, কমিশন বাণিজ্য এবং মানি লন্ডারিংসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর প্রায় ৪০০ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি ক্রোক করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন খান।

অভিযোগ কী কী?

সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী সংঘবদ্ধ অপরাধ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে:

  1. জোরপূর্বক জমি দখল

  2. হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার

  3. কমিশন বাণিজ্য ও প্রতারণা

  4. আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিং

  5. জাল দলিলপত্র ব্যবহার করে সম্পদ অর্জন

সিআইডি জানিয়েছে, গাজী নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার খাদুন এলাকায় ৬৯টি দলিলের আওতায় মোট ৪,৮৭৯ দশমিক ৯২ শতাংশ জমি নিজের ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে অর্জন করেন।

যদিও দলিলমূল্য মাত্র ১৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা, বাস্তবে এসব জমিতে থাকা স্থাপনা ও অবকাঠামোর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।

এসব সম্পত্তি অর্জনের সময়কাল ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বলে জানায় সিআইডি।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম শাখার আবেদনের প্রেক্ষিতে, গত ৮ জুলাই ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত সম্পত্তিগুলোর ওপর ক্রোকের আদেশ দেন।

এছাড়া, গাজী এবং তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংস্থা ও রেকর্ডকেন্দ্রে তথ্য চেয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, গোলাম দস্তগীর গাজীর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত শুধু সম্পত্তি নয়—তার ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক, সহযোগী চক্র ও বিদেশে অর্থ পাচারের কৌশল নিয়েও বিস্তৃত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত শেষ হলে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন