সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

জমজম: পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পানি, তৃপ্তির সঙ্গে রোগমুক্তির অফুরন্ত উৎস

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ইসলাম ধর্মে জমজমের পানি শুধু একটি পবিত্র পানি নয়, বরং তা খাদ্য ও শিফার উৎস—এমনই ঘোষণা দিয়েছেন প্রিয়নবি হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। সহিহ হাদিসসমূহে জমজমের পানির বরকত, উপকারিতা এবং তা ব্যবহারের সুন্নতি পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়।

হাদিসে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন,
“জমজম পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ পানি। এতে রয়েছে খাদ্যের গুণ এবং রোগের প্রতিকার।”
(তাবরানি, হাদিস: ১১১৬৭)

এ হাদিসে জমজমের দুইটি বিশেষ গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে—এক, এটি খাদ্যের বিকল্প; দুই, এটি রোগমুক্তির মাধ্যম।

সাহাবি আবু জর গিফারি (রা.)-এর ঘটনা উল্লেখযোগ্য। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে দীর্ঘ ৩০ দিন তিনি কেবল জমজমের পানি পান করে বেঁচে ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি কেবল জমজম পান করতাম, ক্ষুধাও লাগত না। এমনকি আমার ওজন পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল।”
(সহিহ মুসলিম: ২৪৭৩)

ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.)-ও এমন মানুষ দেখেছেন যারা ৪০ দিন পর্যন্ত শুধুমাত্র জমজম পান করেই সুস্থভাবে দিন কাটিয়েছেন। (যাদুল মাআদ: ৪/৩৯৩)

জমজম শুধু শারীরিক পিপাসা নিবারণ করে না, বরং তা আল্লাহর অনুমতিতে শারীরিক ও আত্মিক রোগ থেকেও মুক্তি দেয়।
নবিজি (সা.) বলেন,
“যে নিয়তে জমজমের পানি পান করা হবে, আল্লাহ তাআলা সে নিয়ত পূরণ করবেন। যদি কেউ শিফার জন্য তা পান করে, আল্লাহ তাকে সুস্থ করে দেবেন।”
(মুসতাদরাকে হাকেম: ১৭৩৯)

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) জমজম পান করার সময় এ দোয়া পড়তেন:

📿 اللّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا وَاسِعًا، وَشِفَاءً مِّن كُلِّ دَاءٍ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিয়াআ, ওয়া রিযক্বান ওয়াসিয়া, ওয়া শিফাআন মিন কুল্লি দায়িন।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী ইলম, প্রশস্ত রিজিক এবং সব রোগ থেকে মুক্তি প্রার্থনা করছি।

জমজমের পানি শুধু হজযাত্রীদের জন্য নয়, বরং এটি সব মুসলিমের জন্য এক অপূর্ব নিয়ামত ও আশার উৎস। এটি পান করা শুধু শরীরের জন্য নয়, আত্মার জন্যও শিফার উপকরণ। যারা নিয়ত করে ইমানের সঙ্গে পান করেন, তাদের জন্য জমজম হয় রহমতের উৎস।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন