২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাইকা ও এআইআইবি-সহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে ৫০০ কোটিরও বেশি মার্কিন ডলার বৈদেশিক ঋণ পেয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস, বিশেষ করে ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া ঋণের একটি বড় অংশ পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন সরকারে ব্যাংক খাতে মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা, যা তার আগের দিন থেকে ৬ হাজার ১১১ কোটি টাকা কম। অর্থবছরের শেষদিনে ঋণ পরিশোধের এমন চিত্রকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৯৯ হাজার কোটি টাকা, যা পরবর্তীতে কমিয়ে ৯০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। তবে বাস্তবে সরকার ব্যাংক খাত থেকে নিয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান বলেন, “বৈদেশিক ঋণের প্রবাহ বাড়ায় সরকারের পক্ষে অভ্যন্তরীণ ঋণ সমন্বয় সম্ভব হয়েছে। এটি দেশের আর্থিক খাতে ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯৫ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা কম। এমন ঘাটতির পরও অভ্যন্তরীণ ঋণ চাপ পূর্বাভাসের তুলনায় কম হয়েছে।
বর্তমান ঋণ পরিস্থিতি (৩০ জুন ২০২৫ অনুযায়ী):
-
বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ: ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৮১১ কোটি টাকা
-
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ: ৯২ হাজার ৫১ কোটি টাকা
-
সঞ্চয়পত্রে ঋণ: ৫ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা কম
-
অন্য অভ্যন্তরীণ উৎস: ৪৮ হাজার ৩২২ কোটি টাকা
-
মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ স্থিতি: ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা
চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) সরকার ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বৈদেশিক ঋণ প্রবাহ স্থিতিশীল থাকলে অভ্যন্তরীণ চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

