বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ছয় বছর পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ বিচার হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা বরকত উল্লাহ। শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত জাতীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ অভিযোগ করেন তিনি।
বরকত উল্লাহ বলেন, “২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর আমার ছেলেকে শেরেবাংলা হলে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার একমাত্র অপরাধ ছিল দেশের স্বার্থে কথা বলা। আজও আমি ন্যায়বিচার পাইনি।”
তিনি আরও বলেন, “ছেলে শুধু বলেছিল, ভারত গোপনে ফেনী নদীর পানি নিচ্ছে, আমরা ইলিশ পাচ্ছি না—এই কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এটা কোনো সভ্য দেশে হতে পারে না।”
আবরারের পিতা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলমান র্যাগিং সংস্কৃতি বন্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার এসেছে। তাহলে কেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখনো র্যাগিং বন্ধ হচ্ছে না?”
তিনি এ-ও বলেন, “যেসব শিক্ষার্থী র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছে, তাদের একটি রাষ্ট্রীয় তালিকা থাকা উচিত। তাদের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই জাতীয় সমাবেশে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য রাখেন। তিনি দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কার, গণহত্যার বিচার, পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে নির্বাচন, এবং ২০২৪ সালের ‘জুলাই অভ্যুত্থানের’ চেতনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।
জামায়াত নেতাদের দাবি, এটি স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জনসমাগম। দলটি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লাখো নেতাকর্মীকে ঢাকায় সমাবেশে আনতে ট্রেন, বাস ও লঞ্চ রিজার্ভ করে এনেছে।
দলটির নেতারা জানান, এই সমাবেশ থেকে নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে ‘জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ গঠনের বার্তা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের পুনঃস্থাপনের উদ্দেশ্যে এই আয়োজন বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ছাত্রলীগের একাংশের বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর বুয়েট প্রশাসন ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে এবং একটি আলোচিত মামলা হয়, যার বিচার এখনো চলমান।

